প্রায় পাতাশূন্য ডালে থোকায় থোকায় সাদা ও হালকা হলুদ রঙের ফুল ফুটে প্রকৃতিতে ভিন্নমাত্রার নান্দনিকতা যোগ করেছে সজনে। জেলার পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গা ও বাড়ির আনাচে-কানাচে মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে এই ফুল।
বসন্তের আগমনে যখন প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখন সজনে গাছও ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ছোট ছোট সাদা-হালকা হলুদ ফুলের চাঁদরে যেন ঢেকে গেছে চারদিক। গ্রাম থেকে শহরের পথঘাট, বাড়ির আঙিনা, ক্ষেতের আইল—সবখানেই এখন সজনে ফুলের শুভ্র উপস্থিতি।
তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কৃষিতে নীরব এক বিপ্লব—সজনের বাণিজ্যিক চাষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলায় দ্রুত বেড়েছে সজনে আবাদ। কম খরচে বেশি লাভ, অনাবাদি জমিতে সহজে ফলন এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদার কারণে কৃষকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য অর্থকরী ফসল।
থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই ফুল শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সজনের ফুল ও পাতা দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন সুস্বাদু ভর্তা ও রান্না। পুষ্টিবিদদের মতে, বসন্তকালে সজনের ফুল ও পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
একসময় যেখানে পতিত জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সারি সারি সজনে গাছ। রাস্তার ধারে, বাড়ির সীমানায় কিংবা খালের পাড়ের জমিতেও দেখা মিলছে সবুজ ছায়া। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সজনে চাষে বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। একবার ডাল রোপণ করলে পরের বছর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। সেচ, সার কিংবা কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম।
নীলফামারী সদর উপজেলার সিটকালিকাপুর গ্রামের কৃষক মোবারক আলী জানান, ধান বা আলুর মতো ফসলে খরচ ও ঝুঁকি বেশি থাকলেও সজনে চাষ প্রায় ঝামেলামুক্ত। অবহেলার মধ্যেও ভালো ফলন পাওয়া যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলার জলবায়ু ও মাটি সজনে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে সজনে হতে পারে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য এবং রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় ফসল।
প্রায় পাতাশূন্য ডালে থোকায় থোকায় সাদা ও হালকা হলুদ রঙের ফুল ফুটে প্রকৃতিতে ভিন্নমাত্রার নান্দনিকতা যোগ করেছে সজনে। জেলার পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গা ও বাড়ির আনাচে-কানাচে মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে এই ফুল। বসন্তের আগমনে যখন প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখন সজনে গাছও ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ছোট ছোট সাদা-হালকা হলুদ ফুলের চাঁদরে যেন ঢেকে গেছে চারদিক। গ্রাম থেকে শহরের পথঘাট, বাড়ির আঙিনা, ক্ষেতের আইল—সবখানেই এখন সজনে ফুলের শুভ্র উপস্থিতি। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কৃষিতে নীরব এক বিপ্লব—সজনের বাণিজ্যিক চাষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলায় দ্রুত বেড়েছে সজনে আবাদ। কম খরচে বেশি লাভ, অনাবাদি জমিতে সহজে ফলন এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদার কারণে কৃষকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য অর্থকরী ফসল। থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই ফুল শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সজনের ফুল ও পাতা দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন সুস্বাদু ভর্তা ও রান্না। পুষ্টিবিদদের মতে, বসন্তকালে সজনের ফুল ও পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একসময় যেখানে পতিত জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সারি সারি সজনে গাছ। রাস্তার ধারে, বাড়ির সীমানায় কিংবা খালের পাড়ের জমিতেও দেখা মিলছে সবুজ ছায়া। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সজনে চাষে বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। একবার ডাল রোপণ করলে পরের বছর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। সেচ, সার কিংবা কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম। নীলফামারী সদর উপজেলার সিটকালিকাপুর গ্রামের কৃষক মোবারক আলী জানান, ধান বা আলুর মতো ফসলে খরচ ও ঝুঁকি বেশি থাকলেও সজনে চাষ প্রায় ঝামেলামুক্ত। অবহেলার মধ্যেও ভালো ফলন পাওয়া যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলার জলবায়ু ও মাটি সজনে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে সজনে হতে পারে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য এবং রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় ফসল।
সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এখন সরিষার হলুদে ভরে উঠেছে মাঠ। দোল খাওয়া সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ২৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। সরিষার পাশাপাশি মধু আহরণেও সাফল্য এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ টন মধু উৎপাদনের, তবে ইতোমধ্যে প্রায় ৬১ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌসুম শেষে এই উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টরি-৭, বারি-৯, ১৪, ১৭, ১৮, ২০ এবং বিনা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেতে মৌচাষিরা মৌবাক্স স্থাপন করে মৌমাছি পালন করছেন। মৌচাষ থেকে মোট ৭৫ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, তালায় ১ হাজার ৩৬৫, কলারোয়ায় ৭ হাজার ৬৫৫, দেবহাটায় ১ হাজার ৯০৫, কালিগঞ্জে ১ হাজার ২৪০, আশাশুনিতে ৯৮০ এবং শ্যামনগরে ৭৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ টন থাকলেও ইতোমধ্যে তা অতিক্রম করেছে। এটি জেলার জন্য একটি বড় সাফল্য।”
বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে। স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে। সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে। তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।