বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের কৃষক আজিজুল হাকীম শীতপ্রবাহ উপেক্ষা করে নিজের এক একর জমিতে কুইক স্টার বিটকপি চাষ করে বাম্পার ফলন তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিজীবনে এটি তার অন্যতম সফল চাষ বলে জানাচ্ছেন তিনি।
চাষি আজিজুল হাকীম জানান, তার ক্ষেতে কুইক স্টার এবং জিরো-৫ প্রজাতির বিটকপি চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮৫ দিনের চাষে তিনি প্রায় ৫০০ মন বিটকপি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন অনুযায়ী তিনি আশা করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন। এ ফসল থেকে তিনি নিজের পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবেন।

আজিজুল হাকীম বলেন,
“পৈত্রিক জমিতে কুইক স্টার চাষ করে এত ভালো ফলন পেয়েছি, এটি আমার জন্য এক অনন্য আনন্দ। পরিশ্রমের মূল্য এই ফলন দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক শীতকালীন রবি শস্য ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ জানান,
“আজিজুল হাকীমের সফলতা পুরো ইউনিয়নের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি দপ্তর নতুন নতুন ফসল উৎপাদন ও আধুনিক চাষপ্রণালীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন চাষিদের উৎসাহিত করছে। শীতকালীন সবজি চাষে এ ধরনের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
সরেজমিন দেখা যায়, আজিজুল হাকীমের একর জমিতে সবুজ কুইক স্টার বিটকপি ঘনবিপুলভাবে ছড়িয়ে আছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের চোখে স্বচ্ছ আনন্দ ও চাষির মুখে সন্তুষ্টির হাসি প্রকৃত অর্থেই তার সফলতার প্রমাণ বহন করছে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের কৃষক আজিজুল হাকীম শীতপ্রবাহ উপেক্ষা করে নিজের এক একর জমিতে কুইক স্টার বিটকপি চাষ করে বাম্পার ফলন তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিজীবনে এটি তার অন্যতম সফল চাষ বলে জানাচ্ছেন তিনি। চাষি আজিজুল হাকীম জানান, তার ক্ষেতে কুইক স্টার এবং জিরো-৫ প্রজাতির বিটকপি চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮৫ দিনের চাষে তিনি প্রায় ৫০০ মন বিটকপি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন অনুযায়ী তিনি আশা করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন। এ ফসল থেকে তিনি নিজের পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবেন। আজিজুল হাকীম বলেন, “পৈত্রিক জমিতে কুইক স্টার চাষ করে এত ভালো ফলন পেয়েছি, এটি আমার জন্য এক অনন্য আনন্দ। পরিশ্রমের মূল্য এই ফলন দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক শীতকালীন রবি শস্য ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ জানান, “আজিজুল হাকীমের সফলতা পুরো ইউনিয়নের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি দপ্তর নতুন নতুন ফসল উৎপাদন ও আধুনিক চাষপ্রণালীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন চাষিদের উৎসাহিত করছে। শীতকালীন সবজি চাষে এ ধরনের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” সরেজমিন দেখা যায়, আজিজুল হাকীমের একর জমিতে সবুজ কুইক স্টার বিটকপি ঘনবিপুলভাবে ছড়িয়ে আছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের চোখে স্বচ্ছ আনন্দ ও চাষির মুখে সন্তুষ্টির হাসি প্রকৃত অর্থেই তার সফলতার প্রমাণ বহন করছে।
বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে সবজি রপ্তানির মাধ্যমে। চলতি বছর সবজি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি লাউ, কাঁচামরিচ, শিম, বেগুন, এবং মুলার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সবজি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, এবং যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কারণে দেশীয় সবজির চাহিদা বেশি দেখা গেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জাহিদুল হাসান বলেন, “সরকার রপ্তানি-উপযোগী কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করছে। নিরাপদ এবং রাসায়নিক মুক্ত উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হিমাগার ও রপ্তানি মান অনুযায়ী প্যাকেজিং সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।” ঢাকার সন্নিকটে সাভারের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানালেন, “আমি আগে শুধু স্থানীয় হাটে বিক্রি করতাম। এখন এলাকার একটি সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের সবজি দুবাই পাঠানো হয়। দামও ভালো পাই, সময়মতো টাকা পেয়ে যাই।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বছরব্যাপী সবজি উৎপাদনের ক্ষমতা থাকায় এই খাতে রপ্তানির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা এটাও বলছেন যে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, সঠিক হিমায়ন ব্যবস্থা, ও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেমন—নরসিংদী, যশোর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য মানের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে দ্রুত সবজি পার্সেল হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা, কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য আলাদা ল্যাব, এবং নতুন কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করলে এই রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববাজারে সবজি রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও যাতে পূরণ হয়, সে বিষয়েও নজর রাখছে সরকার। কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক বাজার’ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাপও চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন শুধু দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যদি অবকাঠামো ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান সবজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।
জলবায়ু সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল ভাঙনের মুখে বাংলাদেশ একটি নদীভিত্তিক দেশ। এর বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু জলবায়ু সংকটের কারণে এই উপকূলরেখা এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন ও সুনামির মতো দুর্যোগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে গলছে হিমবাহ ও বরফের স্তর, যার ফলে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। বাংলাদেশ উপকূলের বালু, মাটি ও মঙ্গোভ বনের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রবল ঝড় ও সুনামির হারও বেড়েছে, যা উপকূলীয় এলাকা ও জনজীবনকে আরও বেশি বিপন্ন করছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবিকা কৃষি ও মৎসধরনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মাটির ক্ষয় এবং পানির ক্ষারাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। বহু পরিবার তাদের বসতবাড়ি হারাচ্ছে, অনেকেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই বাস্তবতা নতুন জাতিগত ও অর্থনৈতিক সমস্যাও তৈরি করছে। সরকার ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উপকূল সংরক্ষণের জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বনে রক্ষণাবেক্ষণ, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চেষ্টা চলছে ক্ষয় রোধের। তবে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ—কার্বন নিঃসরণ কমানোতে আন্তর্জাতিকভাবে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা, অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করা। কারণ জলবায়ু সংকট শুধু প্রকৃতির সমস্যা নয়, এটি মানবজাতির সুরক্ষারও ব্যাপার। উপকূলীয় এলাকার এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের দেশের সরকার, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।