ইলিশের প্রজনন ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে চাঁদপুর জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এ দুই মাস কোনো প্রকার মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় মডেল থানা পুলিশ প্রায় ২০ টন চুরি হওয়া সুপারি উদ্ধার করেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সুপারির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৯৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মামলার আসামিরা হলেন: • মামুন খান (৩৮), খুলনার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের মোঃ ছলেমান খানের ছেলে • তুহিন খান (৫৫), খুলনা হরিণটানা থানাধীন মোস্তফার মোড় এলাকার মোঃ ছুলাইমানের ছেলে • মনি শেখ (৪৩), ফকিরহাট উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ শেখের ছেলে পুলিশ জানিয়েছে, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত সুপারি মোংলা বন্দরের মাধ্যমে বেনাপোল বর্ডারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২৫০ বস্তা সুপারি গাড়িতে তুহিন খানের মালিকানাধীন গাড়িতে পাঠানো হয়, চালক ছিলেন মামুন খান। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালামাল পৌঁছানো যায়নি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে চটের বস্তায় রাখা ২৫০ বস্তা সুপারি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মালামাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা চালক ও গাড়ির মালিক পরস্পরের যোগসাজশে সুপারিগুলো আত্মসাৎ করে তৃতীয় ব্যক্তির কাছে গচ্ছিত রাখেন। মামলার বাদী গোপাল চন্দ্র ঘোষ পুলিশকে জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী হোস্টেলে কনডম পাওয়া নিয়ে উত্তেজনা, বিক্ষোভে অধ্যক্ষকে তালাবদ্ধ করলেন শিক্ষার্থীরা। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রী হোস্টেলে কনডম পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ চালান। আন্দোলনকারীরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অফিসে আটকে দেন। ঘটনার সূত্রপাত আসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হোস্টেলে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করা সেনা সদস্যরা বাথরুম পরিষ্কার করার সময় কনডমের প্যাকেট পায় বলে জানা যায়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বেলা ১১টায় মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, কলেজ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, দুই শিক্ষককে হোস্টেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা-র নিঝুরী গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. জহিরুল ইসলাম মাসুদ ভালুকা মডেল থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খোরশেদ আলম উজ্জ্বলসহ ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে খাদিজা আক্তারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা নগদ প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আনুমানিক ৮ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ লুট করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। অভিযুক্ত খোরশেদ আলম উজ্জ্বল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।