বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রভাবশালীদের বাধায় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ বন্ধ থাকায় ১৮ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টির দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী জমির মালিক সৌদি প্রবাসী শহিদুল ফকিরের স্ত্রী শাহানারা বেগম চাঁদা দাবির অভিযোগে মিরাজ শেখসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের আলতিবুরুজ বাড়িয়া গ্রামে ‘পোলেরহাট আদর্শ একাডেমি’ নামের কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি ২০০৫ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে স্কুলটিতে প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ নাজুক হওয়ায় সম্প্রতি সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

এ সময় প্রতিবেশী প্রভাবশালী হাবিবুর রহমানের ছেলে মিরাজ শেখ চাঁদা ও জমির দাবি তুলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, শীতের মধ্যেও খোলা জায়গায় ক্লাস করানো হচ্ছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
জমির মালিক শাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৈধভাবে জমি ক্রয় ও খাজনা পরিশোধের পরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আইনি প্রতিকার চান।
অভিযুক্ত মিরাজ শেখ চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তবে স্কুল নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়নি।
মোরেলগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নীলফামারী সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের সামনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয় পার্টটাইম শিক্ষক হাসান মাহমুদকে ভুয়া ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে জ্যোতি টেইলার্সের মালিক আবু সাঈদ ও তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার পাইপ ও রড দিয়ে শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে আহত করার ঘটনায়। সভায় বক্তৃতা করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ সিদ্দিক সফিকুল ইসলাম, ইন্সট্রাক্টর আরিফ বিল্লাহ, মাহমুদুল হাসান, সামছুস জ্জামান মহসিনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারী। বক্তারা বলেন, “শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর। যদি কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকে, তা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে অবগত করা উচিত। শিক্ষকের উপর সরাসরি ভুয়া ও মিথ্যা অভিযোগ ভিত্তিক হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা আরও দাবি করেন, এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের চার দিন পর জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় বিসিক শিল্পনগরীর পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. আলমগীর হোসেন, তিনি জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন পরিবারসহ ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাস করতেন। গত রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তবে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়, সেদিন তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি। এ ঘটনায় ওই দিনই তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন বিসিক শিল্পনগরীর পাশের একটি স্থানে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিকভাবে আলমগীর হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে। নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার জানান, পারিবারিক কিছু বিষয়ে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। কিছুদিন আগে তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ জানান, মরদেহের পাশ থেকে একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে বিষের বোতল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহে একটি পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনানুগ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাতে একটি ক্লিনিক চুরি করার চেষ্টা করার সময় জনতার হাতে আটক দুই যুবক বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতরা সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪), যারা গোয়ালী মান্দ্রা বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাতেই স্থানীয়রা দুই চোরকে চুরির সময় ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে পুলিশ আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। লৌহজং থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “গণপিটুনির ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হত্যার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”