আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম ভালুকাবাসীর উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তিনি ভালুকার ভাটাচরের সন্তান। তার দাদা ছিলেন কৃষক এবং বাবা বাসচালক। সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে মানুষের সেবার লক্ষ্যেই তিনি চিকিৎসক হয়েছেন। পড়ালেখা শেষে বর্তমানে তিনি একজন ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত।
ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তরুণদের ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমাজগঠনমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি সম্পর্কে তার সচেতনতা তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, রাজনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা রয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাজনীতিবিমুখতা তাকে ভাবিয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত ও রাষ্ট্রসচেতন মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জরুরি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র গঠনের নতুন সম্ভাবনার অংশ হিসেবে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেই ধারাবাহিকতায় দল থেকে ভালুকা আসনে মনোনয়ন পান।
তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্য জনগণের প্রতিনিধি নয়, বরং জনগণের কর্মচারী। জনগণকেই তাদের প্রতিনিধিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তার কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
শেষে তিনি বলেন, তিনি ভোট চাইতে আসেননি। তিনি দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ভালুকা গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ডা. জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে আসছে। যদিও প্রার্থিতা বাতিল, পোস্টাল ব্যালটসহ কয়েকটি সিদ্ধান্তে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তারপরও কমিশনের কার্যক্রম মোটামুটি সন্তোষজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাঠ পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই।’ শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ফখরুল জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফখরুল বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসারে দেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি সব জটিলতা সমাধান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ রিতার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করে তাঁকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে আর কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিতার বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপি ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আপিল আবেদন খারিজ হয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এর আগে ১২ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা রিতার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আপিল করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, রিতা ঋণখেলাপি এবং বিদেশি নাগরিকত্বধারী। তবে কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। গত ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা ও নথি যাচাই শেষে মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা খানম রিতাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আফরোজা খানম রিতা আপিল শুনানির পর বলেছেন, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় এসেছে। এখন আমি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।” নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে এই রায় প্রকাশ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর এনসিপির জোট প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান শক্ত হয়েছে। মুন্সীর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, যেখানে রায়ে প্রার্থিতা পুনর্বহাল হতে পারে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইরফানুল হক সরকার (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিস), মো. আবু জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ–জিওপি) এবং মোফাজ্জল হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় জোটের সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।