সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারি পুরাতন ব্রিজের প্রায় ২৫ টন রড বিক্রি করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেকায়দায় পড়েছেন। অভিযোগ আড়াল করতে তিনি চুরির নাটক সাজিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, এক বছর আগে উপজেলার মুথরেশপুর ইউনিয়নের দুধলি ব্রিজ, তারালী ইউনিয়নের তারালী ব্রিজ ও চাম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর ব্রিজ থেকে পুরাতন রড কোনো সরকারি দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ওই তিনটি ব্রিজের রড নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নির্দেশের পর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন গত ২২ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে একটি এস্টিমেন্ট তৈরি করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের মাধ্যমে ২৯ ডিসেম্বর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করান। বিজ্ঞপ্তির পর ১২ জন ঠিকাদার নিলামে অংশ নিয়ে সিডিউল কেনেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে তারা কোথাও রডের অস্তিত্ব না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, এসব রড এক বছর আগেই বিক্রি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৌতলা বাজারের ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যবসায়ীর কাছে এসব রড বিক্রি করা হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত ৬ জানুয়ারি কালিগঞ্জ থানায় রড চুরির অভিযোগে একটি জিডি করেন উপজেলা প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন পুরাতন রড বিক্রির কথা স্বীকার করলেও নিলাম ও এস্টিমেন্টের বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক আব্দুর রাজ্জাক (৭২) উপজেলার বহেরা গ্রামের মৃত সুজাত আলী সরদারের ছেলে। মামলার এজাহারে জানা যায়, ধর্ষিত কিশোরী আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন করে আসছেন তিনি। পরে বিষয়টি জানা জানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ মার্চ (বুধবার) দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে মাঠে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে রাতেই গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও আব্দুর রজ্জাকের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে একই ভিক্টিমের প্রতিবন্ধী বোন ও মাকে শারীরিক নিপীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে দুপুরে ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের দারোয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আদাবর থানাধীন রিং রোডে অবস্থিত বেগম নুরজাহান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ কাঠা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন বিদ্যালয়ের দারোয়ান ধলু শিকদার। বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জায়গা খালি করেননি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকেও তাকে পুনরায় লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় জমিটি খালি করার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শিক্ষক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধলু শিকদারকে এক মাসের সময় দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়। অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন শিক্ষক সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় ধলু শিকদার ও তার স্ত্রী পারভীন তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এ সময় তাদের মেয়ে তানজিলা আক্তারও পেছন থেকে হামলায় অংশ নেন। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ দারোয়ান ধলু শিকদারকে গ্রেফতার করেছে। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং এর মধ্যে ধলু শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য কাজী রেজাউল ইসলাম (৪০) গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এএসআই অসিম রায় ও এএসআই মিন্টু বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল ছোট বাহিরদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন থানায় দায়ের করা চারটি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।