আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক হন মো. ইমরান হাসান, যিনি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি মাদক মামলার এক আসামির বাড়িতে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে এবং পরে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আহত অবস্থায় তিনি অসহায়ভাবে পড়ে আছেন এবং স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে রেখেছে।
তবে ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত এএসআই দাবি করেন, তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটির কারণ ও পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরিশালে অবৈধভাবে মজুদ ও পরিবহনের অভিযোগে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ একটি পিকআপ জব্দ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গৌরনদী উপজেলার সরিকল বন্দরের একটি গোডাউন এলাকা থেকে জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেলের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২,৪০০ লিটার ডিজেল, ৬০০ লিটার অকটেন এবং ২০০ লিটার পেট্রোল। একই অভিযানে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর এলাকার একটি দোকান থেকেও আরও জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এনএসআই সদস্যরা জানান, একটি পিকআপে করে অবৈধভাবে এসব জ্বালানি তেল মজুদের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তা আটক করা হয়। পরে জব্দ করা জ্বালানি তেল ও সংশ্লিষ্ট মালামাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অবৈধ মজুদ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকায় যাত্রাবাড়ীতে ভয়াবহ অপরাধচক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নারী পরিচয়ে প্রতারণা, পরে অপহরণ, ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদ লুটের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০)কে আটক করা হয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দনিয়া কলেজ এলাকার সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একাধিক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, আসামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয় ব্যবহার করে কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করত। পরে ডেকে নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে আটকে রেখে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় নির্যাতন ও অর্থ আদায় করত। অভিযোগ অনুযায়ী, একই কৌশলে একাধিক ভুক্তভোগীর ওপর ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা ও লুটপাট চালানো হয়। একাধিক ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি কিডনি চিকিৎসাকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় প্রধান অভিযুক্ত যুবদল সংশ্লিষ্ট নেতা মঈন উদ্দিন মঈন-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার (১৩ এপ্রিল) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রতিনিধির অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ দাবি করে আসছিলেন এবং দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করায় ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ঘটনার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাসভবনে গিয়ে অর্থ দাবি করেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় সমবেত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।