কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বদলির ঘটনায় ক্ষুব্ধ এক সাবেক কর্মী ফজলুর রহমান তার কক্ষে প্রবেশ করে ছুরিকাঘাত চালায়। ফজলুর রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত।
ঘটনার সময় ফজলুরও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রক্টর শাহিনুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ড থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এবং স্থানীয় শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ফজলুর রহমান দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারী ছিলেন এবং সাম্প্রতিক বদলি ও বেতনসংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যমান দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নরসিংদীর বালুসাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী, ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম(৪০)কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বালুসাইর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আটকের পর তিনি বলেন-‘ভুল করেছি, ক্ষমা করে দিন’। রোববার দুপুরেই নরসিংদীর বালুসাইর এলাকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় মাধবদী থানা পুলিশ। ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানান, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শিশুটি বিদ্যালয়ে যায়, বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ কারি তার নিজ ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটির কান্নায় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ধর্ষণ কারিকে আটক করে। শিশুটিকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষণ কারির বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। আটক আবুল কালাম সদর উপজেলা বালুসাইর এলাকার মৃত হালিম মাস্টারের ছেলে। এ ঘটনায় স্বজনরা মিছিল শেষে ধর্ষণ কারীর ফাঁসি দাবি জানান। মাধবদী থানার ওসি মো.কামাল হোসেন বলেন, ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শেরপুরে এক কিশোরীকে টার্গেট করে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর। শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২ (তারিখ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬) অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন—তার ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির কন্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে “কবিরাজ” পরিচয়ে মো. খুরশেদ নামের এক প্রতারক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারক চক্রটি সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুনরায় টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় এবং প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন বা তান্ত্রিকের প্রলোভনে পড়ে যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় এক কলেজছাত্রী নিহত ও একই পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত দিয়া আক্তার (২০) ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু মুসা নামে এক ব্যক্তি পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্তকেও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত আছে।