নীলফামারীর সৈয়দপুরে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে অনেক সময় গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, ফলে রান্নাবান্না নিয়ে বিপাকে পড়ছে পরিবারগুলো।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জ্বালানি কাঠ ও খড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব কেনা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জ্বালানি কাঠের দাম প্রতি মণ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং গোল্ডেন খড়ির দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ অবস্থায় উপায় না পেয়ে গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আমন ধান কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা ধান গাছের নিচের অংশ—স্থানীয় ভাষায় ‘নাড়া’—সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতিদিন গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের নাড়া সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের নিত্যদিনের রান্নাবান্না মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস ২০২৬” আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছ আলী আকন, স্কাউটস সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান, প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন, জেলা কাউন্সিলর নাইম হাওলাদারসহ ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা। সভায় জানানো হয়, নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ উপজেলার ৬২টি মাদ্রাসা ও ৬৩টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। প্রতিযোগিতার জন্য ২৩ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা হবে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামে ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো জোড়া শিবমন্দির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনাটি দ্রুত সংরক্ষণ না করলে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মন্দিরের নামফলক অনুযায়ী, এটি ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বর্তমানে অবহেলায় এর অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দেয়ালে নোনা ধরে পলেস্তারা খসে পড়ছে, টেরাকোটার কারুকাজ নষ্ট হচ্ছে। গম্বুজে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদে বটগাছ ও শেকড় গজিয়ে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভেতরের দুটি শিবলিঙ্গও যথাযথ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি সংস্কার না হওয়ায় মন্দিরটি এই অবস্থায় পৌঁছেছে। তারা বলছেন, সামান্য রং করা হলেও চুন-সুরকির স্থায়ী সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, নিয়মিত পূজা চললেও ভবনটি দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না হলে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভক্তরা মন্দিরটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানিয়েছেন, বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এক সেনাসদস্য ও তার ভাইকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত হন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯) এবং তার ভাই জয় আলী। পরিবার অভিযোগ করেছে, মায়ের মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেন। মামলার ভিত্তিতে জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন দাবি করেছে, তারা ধারাবাহিকভাবে ‘মব হামলা’র শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসা পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সেনাসদস্যের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।