স্পাইনাল কর্ডের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশ গমনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। শুনানিকালে মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবমুক্ত করে এক মাসের জন্য বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল ভিসা ইনভাইটেশন লেটার ও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারেক রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করতে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে PayPal চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে হাজারো তরুণকে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সরকারি এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আউটসোর্সিং খাত সম্প্রসারণে ধারাবাহিক কাজ চলছে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ-এর আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিভিন্ন মামলায় হাজির না হওয়াসহ একাধিক অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে প্রকাশ্যে ‘২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তা রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বিবেচিত হয়। এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানসংক্রান্ত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তিনি ধর্মীয় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি সরকারি অবস্থান ও মন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘বিতর্কিতভাবে ব্যাখ্যা’ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। একই ইস্যুতে সিরাজগঞ্জ আদালতে আরেকটি বড় অঙ্কের মানহানির মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত ওই মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর ওপর ন্যস্ত করেছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একাধিক মামলায় ধারাবাহিক অভিযোগ ও আদালতে অনুপস্থিতির কারণে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আইনগত কার্যক্রমের অধীনে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে। নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য কোন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ থেকে ৩০ কোটি দিয়েছেন, ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে সরকার, কার্যকর হয়েছে নতুন বরাদ্দ নীতি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ কাঠামো চালু করে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশ ডিজেলনির্ভর হওয়ায় এ খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যমান মজুত ও আসন্ন আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চাহিদা ও বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাকাটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।