শিরোনাম
সহকারী সচিব পদে উন্নীত হলেন ৩৪ কর্মকর্তা
সহকারী সচিব পদে উন্নীত হলেন ৩৪ কর্মকর্তা

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৩৪ জন কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিফা নুসরাত স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১ জুলাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী নবম গ্রেডের (২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা) সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ পদোন্নতির আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা

নতুন (নবম) পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একই সময়ে এ সুবিধা পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

বাজেট-পরবর্তী আলোচনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ভাতা-সংক্রান্ত সমন্বয়ও পরবর্তী সময়ে করা হতে পারে।

ফলে ১ জুলাই থেকেই পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে—এমনটি নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রে একই নীতিমালা প্রযোজ্য নয়। কেউ সরাসরি সরকারি বেতন কাঠামো অনুসরণ করেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সার্ভিস রুলস বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এ কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তারা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কবে এবং কীভাবে পাবেন।

সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেলের নিশ্চিত সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।