শিরোনাম
বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে
বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে বামনী নদীতে নির্মাণাধীন ক্লোজার বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ অবকাঠামো সম্পন্ন হলে প্রায় ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, অতিবৃষ্টি ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায়ই বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর আগে বামনী নদীতে ১৯-ভেন্টের একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় আলগীর খাল ও নোয়াখালী খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত ছিল। ফলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ, কৃষিজমির ক্ষতি এবং ঘরবাড়ি ও সড়ক প্লাবনের মতো সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এসব সমস্যা নিরসনে নোয়াখালী খালের রিকশাওয়ালা মোড় এলাকায় অস্থায়ী মাটির আড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। পরে সরকার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, সুইসগেট নির্মাণ এবং পুরোনো বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রায় ৪১৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার গভীর ক্লোজার বাঁধ নির্মিত হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষার আওতায় আসবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা কমবে, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ কাজে প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ ও জিওটেক্সটাইল সরবরাহের মাধ্যমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল সহায়তা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “তীব্র জোয়ার-ভাটা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মাত্র তিন মাসে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কিছুটা বিলম্ব হলেও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সাধারণত এ ধরনের কাজ পানির স্তর সর্বনিম্ন থাকাকালে ফেব্রুয়ারি মাসে করা হয়। তবে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে মে-জুন মাসেই এ চ্যালেঞ্জিং কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

নোয়াখালীর শেকড়, লন্ডনে একই পরিবারের ৪৩ সদস্য
নোয়াখালীর শেকড়, লন্ডনে একই পরিবারের ৪৩ সদস্য

নোয়াখালীর শেকড় ধরে যুক্তরাজ্যে গড়ে উঠেছে যেন ‘এক টুকরো বাংলাদেশ’। একই পরিবারের ৪৩ সদস্য বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞা ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা গোলাম রহমান ১৯৫৫ সালে জীবিকার সন্ধানে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ১৯৫৯ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভের পর ধীরে ধীরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে স্থায়ী হন। দেশে ফিরে তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে জমি দানসহ নানা অবদান রাখেন। ২০১১ সালে নিজ গ্রামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে রহমান সাহেবের সন্তান ও নাতি-নাতনিসহ মোট ৪৩ জন যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ জন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। নতুন প্রজন্মের সদস্যরা উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রবাসে থেকেও তারা নিয়মিত বাংলা ভাষা চর্চা, দেশীয় উৎসব পালন এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে দেশে আত্মীয়স্বজনের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

পরিবারটির সদস্যদের মতে, বিদেশের মাটিতে থেকেও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা এবং পারিবারিক ঐক্য বজায় রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।