শিরোনাম
সৈয়দপুরে বিনামূল্যে ৮০০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা
সৈয়দপুরে বিনামূল্যে ৮০০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৮০০ জন চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে এ সেবা দেওয়া হয়।

আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক ছানি রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। এছাড়া প্রায় ৭০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আখতার শাহিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বখশী ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ অনেকে।

গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাতজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসা নিতে আসা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, অর্থাভাব ও যাতায়াত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিনামূল্যের এ ক্যাম্পে এসে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকরা তার চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ ও চশমা দিয়েছেন।

সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী বলেন, দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সৈয়দপুরে মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস পালিত
সৈয়দপুরে মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস পালিত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন, মুফতীয়ে আহলে সুন্নাত ও ‘সৈয়দপুরের গ্র্যান্ড মুফতী’ হিসেবে পরিচিত মরহুম মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস শরীফ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিনব্যাপী এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআনখানি, বাদ জুমা নাত ও মিলাদ মাহফিল, চাদরপোশী, দোয়া মাহফিল এবং তবারক বিতরণ।

গোলাহাটে হুজুরের মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাত ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মরহুমের সাহেবজাদা মাওলানা সাবির হোসেন রিজভী।

মাহফিলে নাত ও বয়ান পেশ করেন মাওলানা মুরশিদুল নূরী রিজভী, মাওলানা মোমিনুল ইসলামী নূরী রিজভী, মাওলানা মারগুব আশরাফী, মুফতী খুরশিদ আলম নূরী রিজভী, মাওলানা কালিম মাদানী, মাওলানা আব্দুল জব্বার রিজভী, মাওলানা রিজওয়ান আত্তারী, খলিফা সৈয়্যদ আব্দুল্লাহ বখশীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, হুজুরের ছাত্র এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ছিলেন এ অঞ্চলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন এবং অসংখ্য ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও ইসলাহী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

বক্তারা আরও বলেন, তাঁর হাত ধরেই সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আহলে সুন্নাতের আদর্শ ও চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসার ঘটে। মত-পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ২০১৩ সালের ৩ মহররম ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজা সৈয়দপুরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে পরিচিত।

সৈয়দপুরে কৃষি শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী ফুটবল উন্মাদনা
সৈয়দপুরে কৃষি শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী ফুটবল উন্মাদনা

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক, আনন্দ-উৎসব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এই উন্মাদনার ভিড়ে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে। উপজেলার বাঙালিপুর ও কামারপুকুর ইউনিয়নের একদল কৃষি শ্রমিক মাঠে কাজ করছেন প্রিয় দল ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে।

১৫ সদস্যের এই শ্রমিক দল ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের প্রতি অনুরাগী হয়ে একসঙ্গে জার্সি কিনে শুরু করেন এক ধরনের সমর্থক ঐক্য। সেই ধারাবাহিকতায় ধান রোপণ, নিড়ানি, ধান কাটা ও মাড়াইসহ সব কৃষিকাজই তারা করেন একই রঙের জার্সি গায়ে।

দলনেতা মোকছেদুল ইসলাম জানান, “আমরা একসঙ্গে কাজ করি, একসঙ্গে খেলা দেখি। আমাদের মধ্যে দারুণ ঐক্য আছে। প্রিয় দল জিতলে উৎসব করব।”

শ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, “কাজের সময় জার্সি পরলে আমাদের আনন্দ হয়। আমরা হাসিখুশি হয়ে কাজ করি।”

স্থানীয়দের মতে, মাঠের শ্রম ও ফুটবলপ্রেম মিলিয়ে এই শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সামাজিক বন্ধন, যা গ্রামীণ জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখরতা।

এদিকে সৈয়দপুর রেললাইনের ধারে পতাকা প্রস্তুতকারীরা জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপ শুধু খেলার আয়োজন নয়—এটি এখন গ্রামীণ সমাজে সংস্কৃতি, আবেগ ও সামাজিক ঐক্যের এক বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

সৈয়দপুরে গাছে গাছে কাঁঠাল, বাম্পার ফলনের আশা
সৈয়দপুরে গাছে গাছে কাঁঠাল, বাম্পার ফলনের আশা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গাছে গাছে ঝুলছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর ও গ্রামীণ জনপদজুড়ে কাঁঠাল গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ফলে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও বাগান মালিকরা।

ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। বাজারেও উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম দিকের কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ পরিবেশ।

উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বোতলাগাড়ী ও বাঙালিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেক গাছে ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কৃষকদের মতে, কাঁঠাল চাষে তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে এবং প্রতি বছর ফলন দেয়। ফলে অনেক পরিবার মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকে। পাশাপাশি শ্রমিক ও পাইকারদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তবে উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন চাষিরা। এছাড়া এলাকায় কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, উপজেলার মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। এ বছরও গাছে গাছে প্রচুর কাঁঠাল দেখা যাচ্ছে। কাঁঠাল শুধু ফল হিসেবেই নয়, এর বিচি ও পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কাঁঠাল স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

সৈয়দপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সৈয়দপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা ধুলিয়া মালিপাড়া গ্রাম থেকে শ্যামল (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরের বাঁশের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা পাইলট জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।

সৈয়দপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান
সৈয়দপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ভেজাল কীটনাশক উৎপাদনের একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ফরিজ উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. সাজিদাকে ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুতের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন এবং সৈয়দপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫০ কেজি প্যাকেটজাত এবং ৪০০ কেজি খোলা অবস্থায় থাকা ভেজাল কীটনাশকসহ মোট ৭৫০ কেজি ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন ধরে এসব ভেজাল কৃষি উপকরণ বাজারজাত করার চেষ্টা চলছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, ভেজাল কীটনাশকের ব্যবহার শুধু ফসলের উৎপাদনই ব্যাহত করে না, এটি মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সৈয়দপুরে রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের বার্ষিক মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
সৈয়দপুরে রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের বার্ষিক মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে জেলা শাখার বার্ষিক জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সভাকক্ষে দিনব্যাপী এ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের সভাপতি ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ।

এতে বক্তব্য দেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম, রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সহকারী কমিশনার মোজাহারুল ইসলাম, স্কাউটার নিলুফা ইয়াসমিন, শিউলী বেগম, নিঘাত পারভীন রুমা, এস কে কাইয়ুম জাস্টিস এবং কুতুব উদ্দিন আলো।

ওয়ার্কশপে স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য জেলা স্কাউটসের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন করা হয়।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে স্কাউটিং কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা স্কাউটসের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনব্যাপী আলোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়নের পর বিকেলে সভাপতি শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ ওয়ার্কশপের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সৈয়দপুরে মাদক বিরোধী সুধী সমাবেশ
সৈয়দপুরে মাদক বিরোধী সুধী সমাবেশ

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় মাদকবিরোধী একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) রাত ১০টায় ২নং ওয়ার্ডের কবরস্থান গেট সংলগ্ন এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনের অংশগ্রহণে শত শত মানুষ এতে যোগ দেন।

“হয় মাদক ছাড়, নয়তো এলাকা ছাড়” স্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক পর্যায়েও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ আইনজীবী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন। তারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

জ্যৈষ্ঠের আমেজে সৈয়দপুরে সন্ধ্যা নামতেই জমে উঠে লিচুর বাজার
জ্যৈষ্ঠের আমেজে সৈয়দপুরে সন্ধ্যা নামতেই জমে উঠে লিচুর বাজার

দিনের গরম শেষে সন্ধ্যা নামতেই নীলফামারীর সৈয়দপুরে লিচুর বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। শহরের পাঁচমাথা মোড়, রেলওয়ে স্টেশন রোড ও কাঁচাবাজার এলাকায় এখন লাল টকটকে লিচুর সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে বেশি। অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেকে রসালো লিচু কিনছেন। বাজারে বিক্রেতাদের হাঁকডাক ও ক্রেতাদের দরদামে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।

বিক্রেতা নেওয়াজ বলেন, প্রতিদিন দিনাজপুর থেকে লিচু এনে সৈয়দপুরে বিক্রি করছেন। প্রতি শত লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। বেদেনা জাতের লিচুর দাম তুলনামূলক বেশি। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়।  

 

সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সৈয়দপুরে ভেজাল জৈব সারের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ও নিম্নমানের জৈব সার এবং মেয়াদ ও তথ্যবিহীন কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল জৈব সার উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন। একই সঙ্গে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।  

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ভেজাল সার ও কীটনাশকের ব্যবসা চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক কীটনাশকের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর কিংবা কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ নেই। দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, বোরন, জিপসাম, কার্বোফুরান ও ডায়াজিননসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে শুধু “মেইড ইন ঢাকা”, “চীন” বা “ইন্ডিয়া” লেখা থাকলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি, ছাই ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে জৈব সারের নামে ভেজাল পণ্য তৈরি করছেন। পরে সেগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সৈয়দপুরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, প্রকৃত জৈব সার তৈরিতে গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটার ব্যবহার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর তা বাজারজাত করা যায়। কিন্তু অনেক উৎপাদক জৈব সারের নামে কেমিক্যাল মিশ্রিত অজৈব সার তৈরি করছেন।

বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেজাল সার ও নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারে অনেক কৃষকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধুভূষণ রায় বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।