গুলশান থেকে শেষ বিদায়ের পথে বেরিয়ে পড়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িবহর। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহটি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে জানাজার উদ্দেশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে যাত্রা করে।
গাড়িবহরে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনরাও বহরে অংশ নিয়েছেন।
জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
এদিকে জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মূল সড়ক ও ফার্মগেটের খামারবাড়ি মোড়ে সকাল থেকেই উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এনইআইআর কার্যক্রম ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না। ফয়েজ তৈয়্যব আরও বলেন, দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ‘অপরাধের লাইসেন্স’ দাবি করা আইনসম্মত নয়। এ সময় তিনি বিটিআরসি ভবনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানান। বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ভাঙচুরে সংস্থাটির ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেন। একই দিন কয়েক দফা দাবিতে কারওয়ান বাজার মোড়ে আবারও জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারের ঘোষণানুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যার আওতায় দেশে ব্যবহৃত সব মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাইয়েনাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে আটজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (বাবু), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্টের আনাস, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আল মামুন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মমিনুর রহমান। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান বলেন, মঞ্জুম আলী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিক হিসেবে যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করেছেন। বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলী বলেন, আমি অন্য দেশের নাগরিক না। সামান্য ভুলের অজুহাতে মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং ন্যায় বিচার পাবো আশা করছি। অপরদিকে রংপুর-২ আসনে পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে সবাই বৈধ হয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আজিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী।