নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শহরের হাওয়ালদারপাড়া এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবক সবাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অনেকেই পণ্য সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভা ও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ২১১ জন টিসিবি কার্ডধারী রয়েছেন। পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের জন্য মেসার্স সাকিল ট্রেডার্স পণ্য সরবরাহ করছে। তবে প্রতিটি প্যাকেজের (৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ২০০ গ্রাম চা) ক্রয় মূল্য ৬৯০ টাকা হলেও বাজার মূল্যের তুলনায় ৩০০–৪৫০ টাকা সাশ্রয় হলেও, দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

রিকশা ভ্যানচালক জয়নুল আবেদীন বলেন, “পণ্য নিতে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংগ্রহ করতে পারি না। এতে রোজগারও বন্ধ থাকে।” অন্যান্য ক্রেতারাও রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসুবিধার কথা জানাচ্ছেন। পণ্য সরবরাহকারি সাকিল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাকিল বলেন, “কার্ডধারীর সংখ্যা বেশি এবং খুচরা টাকা নিয়ে সমস্যা থাকায় বিতরণ ধীর। তবে যথাসম্ভব দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে থাকা স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার সমর্থকরা মানববন্ধনে এসে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালন করতে গেলে অংশগ্রহণকারীদের গালাগালি করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন নারী ও একজন পুরুষকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি নিজ কার্যালয়ে যোগদান করতে পারছেন না বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, মানববন্ধন চলাকালে বাদল মিয়া ও তার সহযোগীরা ব্যানার ছিনিয়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন মানববন্ধনকারীদের মারধর করেন। সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল-স্লোগান করিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, আদালত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহালের রায় দিয়েছেন। তার দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সাংবাদিক নেতারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনের আয়োজকরা। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শহরের হাওয়ালদারপাড়া এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবক সবাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অনেকেই পণ্য সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভা ও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ২১১ জন টিসিবি কার্ডধারী রয়েছেন। পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের জন্য মেসার্স সাকিল ট্রেডার্স পণ্য সরবরাহ করছে। তবে প্রতিটি প্যাকেজের (৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ২০০ গ্রাম চা) ক্রয় মূল্য ৬৯০ টাকা হলেও বাজার মূল্যের তুলনায় ৩০০–৪৫০ টাকা সাশ্রয় হলেও, দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রিকশা ভ্যানচালক জয়নুল আবেদীন বলেন, “পণ্য নিতে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংগ্রহ করতে পারি না। এতে রোজগারও বন্ধ থাকে।” অন্যান্য ক্রেতারাও রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসুবিধার কথা জানাচ্ছেন। পণ্য সরবরাহকারি সাকিল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাকিল বলেন, “কার্ডধারীর সংখ্যা বেশি এবং খুচরা টাকা নিয়ে সমস্যা থাকায় বিতরণ ধীর। তবে যথাসম্ভব দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়ন যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত ৩০ বছরে ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটারের ইউনিয়নের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জমি এখন নদীজলে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করছেন, স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুরো ইউনিয়নটি ভবিষ্যতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। উপজেলার চলাচলের একমাত্র পাকা সড়ক, ফসলি জমি, ভিটেমাটি, দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ২০০ মিটার ব্রিজ নদীর ধারাভাঙনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্কার হওয়া হরিণধরা বাঁধের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশও হুমকিতে রয়েছে। চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম আক্কাস বলেন, সড়কের এক হাজার ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের যোগাযোগের সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এক সময় বর্ষার মৌসুমেই নদী ভাঙত, এখন সারা বছরই ভাঙন হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হাসান ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা নকিবুজ্জামান খান জানিয়েছেন, নদী ভাঙন রোধে বড় প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ীভাবে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে পুরো ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও ফসল হারাবে।