শীতের শেষ দিকে পবিত্র মাহে রমজানের আগমন বাগেরহাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার, চন্দ্রমহল ইকো পার্ক এবং মোংলার করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থলগুলো এখন প্রায় দর্শনার্থীশূন্য। শীতকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা এখন হঠাৎ কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন শ্রমিক, ভ্যানচালক ও স্মারকপণ্য বিক্রেতারা জানান, পর্যটক না আসায় তাদের দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এক পর্যটক বলেন, “অন্যান্য সময় বাগেরহাটে ভিড় থাকলেও রমজানের কারণে দর্শনার্থী কম হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
টুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ শারাফাত জানান, “রমজানে পর্যটকের আনাগোনা কিছুটা কমেছে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল আছে এবং এখনো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার খবর নেই।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, রমজানের শেষে পর্যটক আসার ধারা পুনরায় সচল হবে। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি অপরিহার্য বলে তারা মনে করছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের থানারহাট মডেল মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আনোয়ারুল হক। সহকারী শিক্ষক আবদুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন এবং তাদের নৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
দেশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই হাওর ও মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। একই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের মমিনা হাওড়ে ধান কাটার সময় সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় গরু আনতে গিয়ে মো. মমতাজ আলী খান (৭০) বজ্রপাতে নিহত হন। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়া ভীমখালী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুইটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও দিরাই উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আরও পাঁচজন নিহত হন। এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অধিকাংশ ঘটনা ঘটে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় খোলা হাওরে কাজ করার সময়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি পেট্রোল পাম্প পাঁচ মাস ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “মেসার্স সুইটি ফিলিং স্টেশন” নামের পাম্পটি দুই ভাই সৈয়দ শাহনেওয়াজ হোসেন নবেল ও সৈয়দ আতাউর হোসেন মিলন-এর যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হতো। ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ব্যবসা করলেও পরবর্তীতে অংশীদারিত্ব ও সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসা বিভাজনের সময় আতাউর হোসেন মিলন তার প্রাপ্য সম্পত্তি ও নগদ অর্থ আলাদাভাবে নিতে চাইলে শাহনেওয়াজ হোসেন নবেল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, বিরোধ মীমাংসায় গত ১৮ বছরে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সালিশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, আতাউর হোসেন মিলন তার প্রাপ্য সম্পত্তি ও নগদ অর্থ না পাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, বিরোধের কারণে পেট্রোল পাম্পটি গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ থাকায় নাচোল উপজেলার সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে পাম্পটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।