তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম ১৫ দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে কেন্দ্রে এসেছে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ নিয়ে আলোচনা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নেতাদের নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অফিস সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির পদে জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়নি, রাজনৈতিক ও বিরোধী পক্ষের চাপে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা প্রভাব ফেলেছে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে। স্পিকার পদে আলোচনা চলছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মধ্যে। অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় দক্ষতার ভিত্তিতে হাফিজ উদ্দিন ও জয়নুল আবেদীনের নাম দলের ভেতর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হবে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রে ইতিবাচক নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারসহ চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভারসাম্য রক্ষা করেই দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নিয়মাবলি জারি করেছে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত করার জন্য এই সময়সীমা সর্বজনীনভাবে কার্যকর হবে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজের (যেমন সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ব্যাংক বা হাসপাতাল সফর) কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। তবে এই বিষয়টি জনসেবায় বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য এখন থেকে অফিসে নির্ধারিত সময় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নিয়মটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর হবে। ব্যতিক্রম স্বরূপ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য, রোস্টার ডিউটি করা হাসপাতাল ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী, জরুরি গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভিআইপি প্রটোকল, জরুরি দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা, অনুমোদিত সরকারি সফর ছাড়া অফিস ত্যাগ করা যাবে না। দাপ্তরিক কাজে ব্যতীত অফিস ত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপ সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থায় শীর্ষ পর্যায়ে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে কমিশনের দুই সদস্য—মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ—তাদের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরের পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৃথকভাবে উপস্থিত হয়ে তারা পদত্যাগপত্র দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে কমিশনার আলি আকবার আজিজী গণমাধ্যমকে তিনজনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যদিও পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–কে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর সার্বক্ষণিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় থাকবেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এক সরকারি গেজেটে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে সংশ্লিষ্ট সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের মতো অবসর-পরবর্তী এক বছরও তিনি এসএসএফের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন। অতীতে ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টাকে সীমিত সময়ের জন্য অনুরূপ সুবিধা দেওয়া হলেও বর্তমান আদেশে নিরাপত্তা সুরক্ষার সময়সীমা বাড়িয়ে এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।