নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর (প্রায় ৫০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের গোলাহাট কবরস্থান সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকার রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে গোলাহাট কবরস্থান এলাকার রেললাইনের আশপাশে ওই নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুতগতিতে চলাচলকারী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় তিনি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ–কে জানালে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মাহমুদ-উন নবী জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয়দের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ফাঁকা হওয়ার সময় নগরবাসীর বাসাবাড়ি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ত্যাগের আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে। প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের কাছে কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায়ও সেগুলো জমা রাখা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রোববার (১৫ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়ায় শহরের অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এ অবস্থায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সচেতন থাকা জরুরি। বাসা ছাড়ার আগে দরজা–জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বা সচল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও জানান, ঈদের সময় রাজধানীতে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের টহল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির মাধ্যমে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত ফুট প্যাট্রোলও পরিচালিত হচ্ছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার চক্রের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েক দিন ফাঁকা রাজধানীতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বা রেসিং প্রতিরোধে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী–আবদুল্লাহপুর করিডোর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।
ছাত্ররাজনীতি থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী ও আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শনিবার (১৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–এর অধীন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ–এ পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এ যোগ দেন। পরে ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন। একই বছর তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও মনোনীত হন। পরে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থা–এর চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ঈদ মানেই নতুন জামা, আনন্দ আর হাসি। কিন্তু সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে সেই আনন্দ অনেক সময়ই অধরা থেকে যায়। তবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগে এবার ঈদের আগেই হাসি ফুটেছে শতাধিক শিশুর মুখে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী একটি দোকান। দোকানের সামনে বড় ব্যানারে লেখা ছিল— “এক টাকায় ঈদের নতুন জামা”। ব্যানারটি দেখেই আশপাশের পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও কৌতূহল। দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাতে ছিল একটি করে এক টাকার কয়েন বা নোট। তাদের প্রত্যেকেই মাত্র এক টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের নতুন পোশাক—ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট বা প্যান্ট সংগ্রহ করে। নতুন জামা হাতে পেয়ে তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। সংগঠনটির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে গোলাহাট এলাকায় বসান এই ‘১ টাকার দোকান’। এখানে শিশুদের জন্য নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়। শিশু রেহান (১০) জানায়, তাদের পরিবারে অনেক সময় ঈদের নতুন জামা কেনা সম্ভব হয় না। এক টাকায় নতুন জামা পেয়ে সে খুব খুশি। আর আকাশি (৮) হাসিমুখে বলে, “আমি নিজের পছন্দের একটা ফ্রক নিয়েছি। ঈদের দিন এটা পরবো।” শুধু শিশুদের পোশাকই নয়, এই দোকানে অসহায় মানুষের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসও রাখা হয়েছে। দরিদ্র মানুষরাও মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করতেই এই আয়োজন। শুধু পোশাক নয়, পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, এই কার্যক্রম ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে। সংগঠনের সদস্য মিথুন, সামিউল, রাজা, রাব্বি ও রকিসহ অন্যরাও এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন। তাদের মতে, সমাজের অনেক শিশুই বিভিন্ন উৎসবে বঞ্চিত থাকে—এই ছোট উদ্যোগ সেই বঞ্চনার হাসিমুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে।