বিশ্ব

সৌদি থেকে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ

Icon
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশঃ এপ্রিল ২, ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। হরমুজ প্রণালিতে জটিলতার কারণে আটকে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দেশে আনতে একদিকে যেমন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, অন্যদিকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন আমদানির পথও সুসংহত করা হয়েছে।


সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে বহন করা প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজটির জন্য বিশেষ অনুমতি আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনুমতি মিললে তা সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে।
এদিকে সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল সংগ্রহ করেছে। এই তেল ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে, ফলে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সরবরাহ নিশ্চিত হলে দেশের জ্বালানি সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশমিত হবে।
পরিশোধন শেষে এই তেল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যার মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল ও কেরোসিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত আমদানির প্রয়োজনীয়তা থেকে যেতে পারে।
সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সরকারের এই বহুমাত্রিক উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় একটি প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিহত স্ত্রী

ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেও খবরে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার (১ এপ্রিল) সংঘটিত হামলায় ৮১ বছর বয়সী খারাজি আহত হন। তবে হামলাটি সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল কিনা, নাকি নিকটবর্তী অন্য কোনো স্থাপনায় আঘাত হানার ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। উল্লেখ্য, কামাল খারাজি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে এবং চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

হরমুজে ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজের ৫টিরই চালান বাতিল

মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহ

“প্রতিরোধ ফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হয়েছ“: ইরানি শীর্ষ কমান্ডার

ইরান যুদ্ধে ন্যাটো ও ইউরোপকে পাশে পেতে ‘ব্ল্যাকমেইল ডিপ্লোমেসি’ করছে ট্রাম্প

সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন মোজতবা খামেনি, নিশ্চিত করলো ইরান

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও এখনও জনসাধারণের সামনে উপস্থিত হননি। এর ফলে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় বিবৃতির মাধ্যমে নতুন দায়িত্বের খবর দেন, যা ইরানের টেলিভিশনে পড়া হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি পুরোপুরি সুস্থ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি স্বাভাবিক। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “মোজতবা খামেনি অক্ষত আছেন এবং জনসাধারণের সামনে না আসা শুধুমাত্র কৌশলগত সিদ্ধান্ত।” এর আগে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত এলেক্সাই দেদভ জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডার ইরানে অবস্থান করছেন, তবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অদৃশ্যতা একটি অবাঞ্ছিত না হলেও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোজতবা খামেনির এই জনসমক্ষে অদৃশ্যতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নজরকেও টানে, যেখানে ইরানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

ইরান যুদ্ধেই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবদান প্রশংসনীয়: ট্রাম্প

বুরুন্ডির সামরিক ডিপোতে বিস্ফোরণ, হতাহত ৭০

৪৮ ঘণ্টায় ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় মিলিশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে পাঠাতে নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার দাবি

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা এবং ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রভাবশালী মুখ স্টিভ ব্যানন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর দাবি তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রদত্ত এক বক্তব্যে ব্যানন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ করে বলেন, মিয়ামিতে অবস্থানরত ইয়ার নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে দেশত্যাগে বাধ্য করে সামরিক ইউনিফর্মে সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষমতাধরদের সন্তানরা নিরাপদে অবস্থান করলে তা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণ না করা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও সমালোচনা রয়েছে। ব্যাননের বক্তব্যে সেই বিতর্কই আরও উসকে উঠেছে। একইসঙ্গে এই আলোচনার বিস্তার ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে নিয়েও অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা শুরু হয়েছে, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তানদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের দাবি  উত্থাপন করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আওতায় তরুণদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তবে ১৯৭৩ সালের পর থেকে কোনো বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ কার্যকর হয়নি। এর পাশাপাশি ব্যানন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কৌশল নিয়েও বিতর্কিত প্রস্তাব দেন। তিনি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় রাজপরিবারের সদস্যদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ত্যাগ করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নৈতিকতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের দায়ভার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্টিভ ব্যাননের এ ধরনের মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক অবস্থানই নয়, বরং চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।      

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

সৌদি থেকে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ

২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর হুমকি ট্রাম্পের

নেভাডায় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

0 Comments