ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও উচ্চমাত্রার সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা (কর্নেল) এবং বর্তমানে তিনি নিরাপদ ও শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন, যদিও সামান্য আহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাইলটকে উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয় এবং অভিযানে অংশ নেয় একাধিক যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনী। এর আগে শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্রুকে উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান শুরু করে।
অপরদিকে, ইরান কর্তৃপক্ষও নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে তল্লাশি জোরদার করে এবং তাকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীই ওই পাইলটকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সীমান্ত-অতিক্রমী সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনের নজির গড়েছে ইরান, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশব্যাপী এই ইন্টারনেট বন্ধ টানা ৩৭ দিন বা ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, যা পূর্ববর্তী সব জাতীয় পর্যায়ের শাটডাউনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার ফলে ইরানের সাধারণ জনগণ কার্যত বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা নাগরিক অধিকার ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার জন্য তারা ইরানকে দায়ী করছে। রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, রাতভর পরিচালিত এসব হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ সংশ্লিষ্ট দুটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে অবস্থিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমপ্লেক্সও হামলার শিকার হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে একটি জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্রতর হয়েছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ছায়া কেটে, হরমুজ প্রণালি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খোলা হয়েছে। যুদ্ধকালীন স্থবিরতার পর জাপান ও ফ্রান্সের মালিকানাধীন চারটি জাহাজ প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বেগজনক দাম ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে এই চলাচলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান লারাক দ্বীপের কাছে একটি অনুমোদিত বিশেষ রুট তৈরি করেছে, যা শিপিং অ্যানালিস্টরা ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই রুটে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, এলএনজি পরিবাহক এবং ইউরোপীয় কন্টেইনার শিপ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ‘শান্তিকালীন প্রোটোকল’ চালু করতে যাচ্ছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, প্রোটোকল যুদ্ধ শেষে কার্যকর হবে, যা চলাচলের নিয়মকানুন নির্ধারণ এবং তদারকি নিশ্চিত করবে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা হ্রাসে সীমিত জাহাজ চলাচল সহায়ক হলেও, স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ছাড়া বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।