জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি জেলায় এই ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি জানান, ই-হেলথ কার্ড প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এটি ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলমান এবং আগামী পাঁচ বছরে ব্যাপক পরিসরে জলাধার উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, খেলাধুলা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া ভাতা চালু এবং বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা সহজীকরণের মতো কর্মসূচিও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসেবা ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বলেছেন, এতে সমাজে আইন নিজের হাতে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে পিআইডি আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকার এখন “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধ প্রমাণের একমাত্র এখতিয়ার রাষ্ট্রের, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার নামে পিটিয়ে হত্যা বা শারীরিক আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উপদেষ্টা স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঘাটতি থাকতে পারে, তবে তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি নাগরিকদের আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের পর নতুন আইনি কাঠামো ও সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ কমিশনাররা। খোলা চিঠিতে তারা বিষয়টি তিনটি অংশে তুলে ধরেন—সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব, সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের মান নির্ধারণ। সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব চিঠিতে বলা হয়, সংসদে গুমের সাজা, তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যমান অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর বিধান রয়েছে এবং তদন্ত ও জরিমানা আদায়ের স্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত ছিল, যা পুনর্বহালকৃত ২০০৯ সালের আইনে অনুপস্থিত। আইনগত কাঠামো ও আইসিটির প্রসঙ্গ চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন (আইসিটি) কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রযোজ্য, বিচ্ছিন্ন ফৌজদারি গুমের ক্ষেত্রে নয়। ফলে নতুন করে গুম সংক্রান্ত প্রতিকার সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জুলাই সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ও তদন্ত ক্ষমতা কমিশনের মতে, নতুন কাঠামোতে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের আপত্তি প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, সরকার কমিশনের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীন করা, নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তে পূর্বানুমতির শর্ত এবং বাছাই কমিটিতে নির্বাহী প্রভাব বাড়ানোর বিষয়গুলো তারা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যৎ আইনের মান নির্ধারণ বিদায়ী কমিশনাররা বলেন, নতুন আইন প্রণয়নে অংশীজনদের পরামর্শ থাকলেও, পূর্বের দুর্বল আইন পুনর্বহাল না করে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন ছিল। একইসঙ্গে গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার ওপর জোর দেন তারা।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট–২ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি কারামুক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে ছিলেন। এর আগে উচ্চ আদালত তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় একটি পালাগান আসরে তার কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগারে প্রেরিত হন। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালতের জামিনের ভিত্তিতে তিনি মুক্তি পান।