ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বরং প্রত্যাশিত স্বস্তির পরিবর্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের অনুরোধে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বহাল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘোষণার পরপরই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া না এসে উল্টো অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে ওয়াল স্ট্রিটে। মঙ্গলবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২৯৩ পয়েন্ট এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচকও নিম্নমুখী হয়।
অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মানের ব্রেন্ট ক্রুড তেল দিনের শুরুতে নিম্নমুখী থাকলেও পরে দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮.৪৮ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় তিন শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বন্দর অবরোধ এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের শঙ্কাই বাজারে চাপ তৈরি করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা থেকেই শেয়ারবাজারে পতন ও তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বরং প্রত্যাশিত স্বস্তির পরিবর্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের অনুরোধে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বহাল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোষণার পরপরই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া না এসে উল্টো অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে ওয়াল স্ট্রিটে। মঙ্গলবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২৯৩ পয়েন্ট এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচকও নিম্নমুখী হয়। অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মানের ব্রেন্ট ক্রুড তেল দিনের শুরুতে নিম্নমুখী থাকলেও পরে দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮.৪৮ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় তিন শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বন্দর অবরোধ এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের শঙ্কাই বাজারে চাপ তৈরি করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা থেকেই শেয়ারবাজারে পতন ও তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে যুদ্ধনীতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কমালা হ্যারিস। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর প্রভাবে এমন এক সংঘাতে জড়িয়েছেন, যা মার্কিন জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী এবং দেশটির সেনাসদস্যদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, দেশটি কঠিন পরিস্থিতিতেও কৌশলগত সক্ষমতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারে নতুন করে নৌ-সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কে লোহিত সাগরে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা সূত্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে যাত্রা করে রণতরিটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে সশস্ত্র ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস মাহান’ এবং ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’, যা সম্মিলিতভাবে একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ গঠন করেছে। এর আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে কিছু সময়ের জন্য মেরামতে থাকলেও এখন পূর্ণ সক্ষমতায় পুনরায় অপারেশনাল অবস্থায় ফিরেছে রণতরিটি। বর্তমানে অঞ্চলে ইতোমধ্যে সক্রিয় রয়েছে আরেকটি মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’, আর তৃতীয় ক্যারিয়ার ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ও অগ্রসরমান। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা জোরদার করতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের শক্তি প্রদর্শনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।