আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৩টি জেলায় চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে নদীঘেঁষা এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশা জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দেশের বাকি অংশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং এর কোনো তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব নেই। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্ধিত পাঁচ দিনে আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইলিশের বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না, ফলে ঐতিহ্যবাহী এই মাছ অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাছের বাজার ও পৌর মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ইলিশ সাজানো থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। বিক্রেতারা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বর্তমানে ১.২ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট ইলিশের দামও ১৮০০ টাকার নিচে নয়। মাত্র এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার আশঙ্কাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। ক্রেতারা বলছেন, ইলিশ ছাড়া বৈশাখ কল্পনা করা যায় না, তবে বর্তমান দামে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারাও কম বিক্রির কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সব মিলিয়ে বৈশাখের আগে ইলিশের এমন চড়া দাম ও ক্রেতা সংকট বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর স্থানীয় শাখা। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শেরপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মু. গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া উপজেলা আমীর মাওলানা আফছার উদ্দিন, সেক্রেটারি আরিফ রাব্বানী, পৌর শাখার সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবির ও শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান।
হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নসহ এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর গ্রহণের পর চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা সময়মতো না পাওয়ায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, এমনকি বিলম্বজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তারা অভিযোগ করেন, চাকরিরত অবস্থায় বেতন থেকে ১০ শতাংশ হারে কল্যাণ তহবিলে অর্থ কর্তন করা হলেও গত কয়েক বছর ধরে তা পরিশোধ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধন শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি কলেজে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ হয়।