সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। তবে পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ মোটামুটি ভালো মনে হলেও প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরু হলে। এর আগে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
গণভোটের প্রচারণা কম হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারণা বিএনপির দায়িত্ব নয়। ভোট দেওয়া জনগণের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তা, পদ্মাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরা হবে।
ক্রিকেট প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্রিকেট দেশের সম্মানের বিষয়। সাম্প্রতিক এক ক্রিকেটারকে অপমানের ঘটনাকে তিনি দেশের জন্য লজ্জাজনক আখ্যা দেন এবং এ বিষয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে এ ধরনের বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দেন তিনি।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান জানালেন নাহিদ ইসলাম। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে “রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংকট” আখ্যা দিয়ে তিনি পুনরায় গণআন্দোলনের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আন্দোলন কোনো একক দল বা জোটভিত্তিক নয়; বরং “রাষ্ট্রের সার্বভৌম সুরক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা” থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে শহীদদের আত্মত্যাগ যেন “আইনগত ও নৈতিকভাবে অবমূল্যায়িত না হয়”, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও অংশগ্রহণকারীদের পুনর্বাসন, স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে জুলাই অধিদপ্তর ও শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন সত্ত্বেও কার্যকর বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগও তোলেন তিনি। সভায় উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা দেন, ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি ঝুঁকিতে না রেখে দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বই সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করবে—যা তিনি “দায়িত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের সংকটকালীন সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তার প্রকৃত মূল্যায়ন একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তিনি মন্তব্য করেন, মানবিক সাক্ষ্য আংশিক হলেও চূড়ান্ত বিচার সর্বজ্ঞ সত্তার কাছেই ন্যস্ত। বক্তব্যে তিনি বিদ্যমান আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞার কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলসমূহের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পরিহার করার প্রস্তাব দেন, যা তার মতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। বর্তমান আইনি সংজ্ঞায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে কিছু রাজনৈতিক দলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমান যুক্তি দেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ভাষ্য নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন, যাতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। এদিকে, স্পিকার জানিয়েছেন, উক্ত বিলের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লিখিত মতামত প্রদান করেছে এবং তারা এতে কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।
সরকার ও রাজনৈতিক দলকে আলাদা রাখার নীতিমালার অংশ হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হয়েছেন দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাকি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলকে পৃথক রাখতে আমি প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালাম।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন, উল্লেখ করে যে, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই চূড়ান্ত প্রাধান্য পাবে। গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন সাকি। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।