পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম ওরফে কিলার জাহিদকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানকালে তার কাছ থেকে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম পাবনা সদর উপজেলার কাশিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চু সরদারের ছেলে। সে অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন সাহা পান্ডে হত্যার ও মুন্তাজ চেয়ারম্যানের হাত কাটা মামলার অন্যতম আসামি।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম পাবনা পৌর এলাকার দিলালপুর মহল্লার নাজমুন্নাহারের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে জাহিদকে গ্রেফতার করে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে:
• দুই নলা ওয়ান শুটার গান ও একটি এক নলা ওয়ান শুটার গান
• একটি ১২ বোর কার্তুজ
• ধারালো তলোয়ার ও চাইনিজ কুড়াল
• .২২ বোর রিভলভারের চেম্বার
• তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার, দুইটি লোহার স্প্রিং
• ইলেকট্রিক ড্রিল ও হ্যাকসো ব্লেড
ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার জাহিদকে অস্ত্র আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরবনে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে কয়রা উপজেলার নারায়ণপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য আফজাল সরদার (৩২)কে আটক করেছে। আফজাল খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের নেভিগেশন কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার জামিলুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বাহিনীর কিছু সদস্য পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখার জন্য কোস্টগার্ড, নলিয়ান আউটপোস্ট, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আফজালকে আটক করে। আটককালে তার কাছ থেকে ১টি শটগান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। আফজাল দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অস্ত্র-গোলাবারুদের সরবরাহে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এক নৃশংস দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা টিনশেড বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নাতনিকে অপহরণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় দাদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নিকটবর্তী গম ও সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। সকালে বাড়ির আঙিনা ও ক্ষেত থেকে পৃথকভাবে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের হামলায় আনোয়ার হোসেনসহ ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আদারভিটা ইউনিয়নের চর ডাকাতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরিষাবাড়ীর মনসুরনগর ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। খোঁজাখুঁজির পর একটি গরু ফসলি জমিতে পাওয়া গেলেও অন্যটি আব্দুল খালেকের বাড়িতে পাওয়া যায়। বুধবার সকালে আনোয়ার হোসেন স্থানীয়দের সঙ্গে গরু উদ্ধারে গেলে চোরচক্রের সদস্যরা প্রধান ফটক বন্ধ করে হামলা চালান। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন (৫০), জুলফিকার (১৯), রনি মিয়া (৪৪), শিপন মিয়া (৪২) ও আরও ৮ জন রয়েছেন। স্থানীয়রা ও ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ঘটনাটি তাঁর জানা আছে, তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।