রাজধানীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে ‘মব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘মব’ শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে গণ–অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করতে পারে, তাই এ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সংলাপে তিনি বলেন, গণভবনের পতনের আন্দোলন এবং বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক সহিংসতাকে এক কাতারে বিচার করা আইনসম্মত নয়। বিপ্লবের অর্জনের সঙ্গে ‘মব’ শব্দ জুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের দায়ী করার প্রবণতা সংযত হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
তবে তাজুল ইসলামের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন একাধিক বক্তা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ একে ‘হুমকিস্বরূপ’ মন্তব্য হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মব সহিংসতার কোনো যুক্তিকরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মব সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়, ‘মব’ সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পার্থক্য নির্ধারণে রাষ্ট্র ও সমাজকে আইনগতভাবে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনী অনিয়ম, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় তারা। বিরোধী দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এ লক্ষ্যে দলের সংসদ সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংসদীয় বিধি-বিধান, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া এবং বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সমর্থন জানাবেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিগত অসংগতি দেখা দিলে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে। অন্যদিকে সরকারি দলও সংসদে সম্ভাব্য সমালোচনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুসরণ করে সব প্রশ্নের জবাব দিতে মন্ত্রিসভা ও সংসদ নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সেদিন বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ সংসদীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের সূচনা থেকেই সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় অবস্থানের কারণে অধিবেশনটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুই প্রধান সার কারখানা—চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি—গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১,১০০–১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে, আর কাফকোর উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১,৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ১,৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন চালালে যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার কারণে এবং সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যার আওতায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর–এর মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সরকারি গেজেটে আটজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬–এর ৩বি(আইআই) বিধি অনুসারে এ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা সংবিধান ও প্রচলিত প্রশাসনিক বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট গেজেট অনুযায়ী, পূর্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দায়িত্ব থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তিনি এখন কেবল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, গণঅধিকার পরিষদ–এর সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষর করেন এবং এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও দাপ্তরিক প্রয়োজন বিবেচনায় এ আদেশ জারি করা হয়েছে।