সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মংচাক বলেছেন, পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলো যদি অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে জোট তাদের সহযোগিতা করবে।
এ সময় জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার রক্ষক সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চক্র নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে, যা দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে সিএইচটি জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, পাহাড়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু পক্ষ অরাজকতা ও সাম্প্রদায়িক সমস্যা সৃষ্টি করার পায়তারা করছে। তারা ভোটকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। জোট আশা প্রকাশ করেছে, পাহাড়ে আর কোনো ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা প্রাণহানি হবে না এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতকরণ, মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ১৪টি সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বিষয়ক দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোটের সিনিয়র সদস্য শাহীন আলম, খাগড়াছড়ি সদস্য মোঃ মোক্তাদির, সদস্য নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম সদস্য জিরা বাবু এবং রামগড় সংগঠক আইএইচ রাফি।
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে নলতা আহছানিয়া মিশন এতিমখানায় সরকারি তহবিলের অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে এতিমখানায় শিক্ষার্থী নেই। সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, ভবনের দরজা তালাবদ্ধ, ভিতরে মাত্র ৫–৭ জন ছেলে খেলছে। শিক্ষকের উপস্থিতি নেই। খাওয়ার জন্য ছোট পরিমাণ মাছ ও কাঁচা মালামাল কেনা হয়েছে, যা কয়েকজনের জন্য যথেষ্ট। পাশের অন্য ভবনেও কোনো শিশু পাওয়া যায়নি। উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬২ জন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর নামে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি বরাদ্দের টাকা আসার অপেক্ষা আছে। সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন সভাপতি মাহফুজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং অচিরেই বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেবেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ভোলার সাত উপজেলায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশ নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা চরাঞ্চল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছেন। যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসন সূত্র জানায়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি রোধে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা জোরদারের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করেন, ভোটের দিন কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যন্ত নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে ভোলায় শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক ভোট আশা করা যাচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নীলফামারীতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বেলুন উড়িয়ে তিনি গণভোট প্রচারণা শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরে শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপদেষ্টা। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দেশের মানুষ ভোট দিতে চায়। তাই সবাইকে মিলে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে প্রশাসন, সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে প্রতিরোধ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় নথিপত্র চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটি যাচাই করছে। তাদের সম্মতি পেলেই কাজ শুরু হবে। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র এগিয়ে নিতে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।