রাজধানীর মন্ত্রিপাড়া এলাকায় মন্ত্রীদের জন্য নির্মিত সরকারি আবাসন পুনর্নির্দিষ্টকরণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ইতোমধ্যে বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, গুলশান ও ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত মোট ৭১টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টকে শুধুমাত্র মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে এয়ারমার্ক করার প্রস্তাব দিয়েছে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এসব ভবনে নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতি, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসবাস করছেন, যা বিদ্যমান আবাসন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভবিষ্যতে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে আবাসন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে গত ২ নভেম্বর সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা পুরোনো ৪১টির সঙ্গে নতুন করে আরও ৩০টি আবাসন যুক্ত করে মোট ৭১টি ভবন নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, এসব আবাসনে ভবিষ্যতে মন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বসবাস করতে পারবেন না—এমন নীতিগত প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় প্রকাশের জন্য ছয় আসামিকে সকালেই হাজির করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। ৫ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়, এবং ২৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ নিহত হন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। এই হত্যাকাণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন ২৬ জুন ট্রাইব্যুনালে জমা হয়। ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট, অভিযোগ গঠন করা হয় ৬ আগস্ট। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযুক্তদের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ইতিহাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চূড়ান্ত রূপ পাবে। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড ও তার প্রভাব শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র করে, যা পরবর্তীতে ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সারাদেশে হামের বিরুদ্ধে জাতীয় টিকাদান অভিযান আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ তথ্য ঘোষণা করেন। মন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মে থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউনিসেফ থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় আমরা এ তারিখ ১৪ দিন এগিয়ে নিয়ে আসছি।” তিনি আরও বলেন, সারাদেশের সমস্ত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং জনগণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হত্যার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। এর আগে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় তার কয়েক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। তদন্তে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করেন এবং হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মামলার সঙ্গে জড়িত এবং ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।” মাসুদ উদ্দিন আদালতে বলেন, “মামলায় আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততা নেই।” আদালত তার বক্তব্যের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হত্যা মামলায় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর আওয়ামী লীগের ৫শ’–৭শ নেতাকর্মী দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়া আন্দোলনকারী দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান। এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্তকারীরা হত্যার ঘটনার পলাতক আসামিদের অবস্থান ও প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর হবেন।