রাজধানীর মন্ত্রিপাড়া এলাকায় মন্ত্রীদের জন্য নির্মিত সরকারি আবাসন পুনর্নির্দিষ্টকরণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ইতোমধ্যে বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, গুলশান ও ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত মোট ৭১টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টকে শুধুমাত্র মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে এয়ারমার্ক করার প্রস্তাব দিয়েছে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এসব ভবনে নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতি, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসবাস করছেন, যা বিদ্যমান আবাসন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভবিষ্যতে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে আবাসন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে গত ২ নভেম্বর সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা পুরোনো ৪১টির সঙ্গে নতুন করে আরও ৩০টি আবাসন যুক্ত করে মোট ৭১টি ভবন নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, এসব আবাসনে ভবিষ্যতে মন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বসবাস করতে পারবেন না—এমন নীতিগত প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক ব্যাঘাতের পর পুনরায় আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা এয়ার অ্যারাবিয়া। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে শারজাহ, আবুধাবি ও রাস আল খাইমাহ থেকে ১৭টি দেশের মোট ৪৯টি গন্তব্যে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের নির্দিষ্ট রুটে এই সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ একাধিক গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্বে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীরা নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন, বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে রিফান্ড বা তারিখ পরিবর্তনের সুবিধা গ্রহণ করেননি। কোম্পানিটি জানিয়েছে, যাত্রীদের ক্ষতিগ্রস্ত বুকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো পৃথকভাবে জানানো হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক বিচারপতিকে ঘিরে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে ‘মানিকচোরা’ শব্দ ব্যবহার করলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)সংসদের দ্বাদশ দিনের অধিবেশনে বিচারক বিল রহিতকরণ বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আখতার হোসেন বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, উক্ত শব্দটি সংসদের জন্য অশোভনীয় হতে পারে, তবে সংসদের বাইরে এ ধরনের শব্দচয়ন প্রচলিত রয়েছে। তার বক্তব্যে এক বিচারপতির প্রসঙ্গ টানার পর আপত্তিকর অংশটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ করা হয়। এ বিষয়ে স্পিকার স্পষ্ট করেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষার্থে কোনো ব্যক্তি বা বিচারপতির প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটি সংসদীয় শিষ্টাচার ও বক্তব্যের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় বিতর্কে হামের মৃত্যুর তথ্য ও টিকা সংকট নিয়ে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার ঘাটতি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জরুরি বিষয় তুলে ধরা লক্ষ্য। রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, গত ২০ দিনে সন্দেহজনকভাবে ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, নিশ্চিত মৃত্যু ১৬। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের কান্না ও পরিবারের ধ্বংসের গল্প রয়েছে। এছাড়া, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ইপিআই কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। এ বিষয়ে জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে বলেন, “ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট।” তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়া আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক নয়। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও ঝুঁকি নিয়ে মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং একজন শিশুর মৃত্যুর পর কেঁদেছেন। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সরকারের উদ্যোগে টিকার মজুদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। মন্ত্রী পুনরায় বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আতঙ্ক ছড়ানো এড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।