ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা ম্যাজিস্ট্রেট ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ টহল পরিচালনা করছে।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কাজী আশিকুর রহমান জানান, জনমনে আস্থা সৃষ্টি, অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ ও আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দিনরাত টহল চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শহর এলাকা ও মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের জন্য সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদী–এর ওপর নির্মিত ‘গোমা সেতু’। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমে ১৫ মার্চ উদ্বোধনের কথা থাকলেও চূড়ান্ত প্রস্তুতির কারণে তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি প্রায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ এবং দুই লেনবিশিষ্ট। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত সেতুটির মাঝের দুটি স্প্যান স্টিল ট্রাস প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সাধারণ স্প্যানের তুলনায় বেশি উঁচু। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন ও স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করার ফলে ২০২২ সালে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ–এর মধ্যে মতবিরোধের কারণে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে। পরে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর স্টিল ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হয় এবং নির্মাণকাজ আবারও শুরু হয়। এতদিন বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে নদী পারাপারের জন্য ফেরি বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হতো। সেতুটি চালু হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত হবে সহজ ও দ্রুত। স্থানীয়দের আশা, গোমা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই তীরের চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বোধন ঘিরে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।
শেরপুরের নকলায় সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নাজিফ (১২) নামের এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নাজিফ জামালপুর সদর উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তার মা ও দুই ভাই-বোন অটোরিকশায় ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে নাজিফ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতরা হলেন তার মা সুমা আক্তার, দুই সন্তান নাহিদ ও নওশিন এবং অটোরিকশার চালক। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সুমা আক্তার ও নাহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য দুইজন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, দুর্ঘটনাক্রান্ত বাসটি আটক করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে দুটি বিদেশি জাহাজ। ভারতের কোলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সেভেন সিয়েস–এর ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে। কোলকাতা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ দুটি মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চাল খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বড় জাহাজ থেকে চাল খালাস করে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি খাদ্যগুদামে পাঠানো হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে জাহাজ দুটি থেকে পুরো চাল খালাস সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার জানান, জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় সরকার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মোট আট লাখ টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে এটি নবম চালান। তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি করা হচ্ছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত এই চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণ বেশি, যা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়েও নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।