শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে নেমে সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা) আসনে নির্বাচনী প্রচারে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু। এমন দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সদর উপজেলার ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনীতি, সার্বিক উন্নয়ন ও সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগকালে আশরাফুজ্জামান আশু বলেন, “আমি এমপি হলে সদর–দেবহাটার মানুষই হবে প্রকৃত এমপি। আমি ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, বিশ্বাস করি মানুষের রাজনীতিতে।”
তিনি আরও বলেন, “অসুস্থতার কারণে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মাঠে নামতে পারিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে এসে যে সাড়া পাচ্ছি, তা অভূতপূর্ব। ভোটারদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।” একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠু ভোট আয়োজন নিয়েও শঙ্কার কথা জানান।
এ সময় গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াতুল করিম পিটুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কাজী আমিনুর রহমান ফিরোজ, জেলা যুবসংহতির সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পি, জেলা তরুণ পার্টির আহ্বায়ক আবু ইয়াসিন, সদস্য সচিব আব্দুল কাদেরসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিনিধি সাজন কুমার মিস্ত্রী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তিনি ঝিলবুনিয়া, কামলা, কচুবুনিয়া, হোগলাপাশা, বৌলপুর, শৌলখালী বাজার, পুটিখালী, জিউধরা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি ঝিলবুনিয়া পীর সাহেব, প্রয়াত সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য সুধাংশু শেখর হালদারসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কবর জিয়ারত করেন। গণসংযোগকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আকতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল ফকির, যুবসংহতির উপজেলা সভাপতি মো. মাসুদ রেজা, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ফরাজী পলাশসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সাজন কুমার মিস্ত্রী বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণেই তিনি রাজনীতি করছেন। মোরেলগঞ্জ-শরণখোলাকে সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যার প্রতিবাদে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টায় নব্বইরশী বাসষ্ট্র্যান্ড থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ চৌরাস্তা মোড়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় পরিণত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান সাঈফ, পৌর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাষ্টার আল আমিন, সহ-সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন নেতা। সভায় শাহাদাত বরণকারি মাওলানা রেজাউল করিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বক্তারা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১০ দলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কালেখারবেড় শহীদ মিনার চত্বরে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। রাজনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ জিএম ফারুক হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক। জনগণের সমর্থন পেলে রামপাল–মোংলার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।” সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসাইন, রামপাল উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাজিদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মল্লিক আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান জিহাদ। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রশিবির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।