তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী মিনু বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এটি রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যের জন্য দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা। এর আগে ২০০১ সালে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতেন।
মিনু রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে জয়ী হন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একটানা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন, যেমন মহানগর সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব।
শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক দিক থেকেও মিনুর অভিজ্ঞতা মূল্যবান। দলীয় নেতারা মনে করেন, তার নেতৃত্ব বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভূমি মন্ত্রী হিসেবে মিনুর নাম ঘোষণার পর রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। খবর পাওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
সরকার আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের ১৮ জেলায় ৩০টি উপজেলাকে লক্ষ্য করে হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করবে। প্রথম ধাপে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, তাই এই বয়সসীমার সকল শিশু—আগে আক্রান্ত হোক বা না হোক—টিকার আওতায় থাকবে। এছাড়া, অসুস্থ বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও দেওয়া হবে। টিকাদান কার্যক্রমের তদারকিতে মন্ত্রণালয় একাধিক স্থানে পরিদর্শন করবে। মন্ত্রী নিজে ঢাকার নবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালন করবেন, কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘করোনার মতো সংক্রমণ মোকাবিলা করেছি, হাম নিয়েও সফল হবো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় মনোনিবেশ করছে, অতীতের ত্রুটি নিয়ে তদন্তে নয়। টিকার আওতাভুক্ত উপজেলা রয়েছে বরগুনা সদর, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া, চাঁদপুর সদর, হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ি, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, যশোর সদর, নাটোর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং, শ্রীনগর, মাদারীপুর সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বীকার করেছেন যে, হামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ব কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছরের শিশুদের জাতীয় জরুরি টিকাদান অভিযান শুরু হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকার ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, টিকার কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে সরকারি সকল বিভাগ কাজ করবে এবং অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশাবাদী, আগামী রোববারের মধ্যে মাঠপর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হলে ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে সড়কে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত ভিড় কমাতে দ্রুত একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে। আলোচনায় উঠে আসে, রাজধানীর কিছু স্কুলে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতি সড়কব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও আইনসম্মত যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।