দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে পুনরায় সমন্বয় আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে।
বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি সংযোজিত হবে। গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশের স্বর্ণবাজারে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এবার বড় পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার রাতের সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রামের একটি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা একদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে পতিত হয়েছে। এই মূল্য পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে এবং স্বর্ণের বাজারে নতুন প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের ছয়টি ব্যর্থ এনবিএফআই (ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হতে পারে। রোববার (২৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, প্রথম কিস্তিতে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং জুনের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩,০০০ কোটি টাকা ছাড়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিকুইডেশনে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড গত ২৭ জানুয়ারি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এছাড়া আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের জন্য সীমিত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৩৫টি এনবিএফআই-র মধ্যে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫,৮০৮ কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৩ শতাংশ খেলাপি। সমস্যা মুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মূলধন উদ্বৃত্ত এবং লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আমানতকারীদের নিট আমানত প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে বিমান খাতে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মূল্য এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক জরুরি বৈঠকের পর নতুন মূল্যহার অনুমোদন ও প্রকাশ করা হয়, যা কার্যকর হবে ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে। নতুন নির্ধারিত দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লিটার ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে ১.৩২১৬ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন বিবেচনায় এনে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়, যেখানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বিমান পরিবহন খরচে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং যাত্রীসেবায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।