ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্র্রীয় সংবাদমাধ্যমে (আইআরআইবি) এক ঘোষণায় জানায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে সংঘটিত হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC নিউজ ও CNN একই তথ্য প্রচার করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। পরবর্তীতে Reuters জানায়, শনিবার সকালে তেহরানে পরিচালিত হামলার ঘটনাতেই এ মৃত্যু ঘটে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। খামেনির মৃত্যুতে দেশব্যাপী ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাঁর স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে চালু রাখা হবে, যা পূর্বনির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কূটনৈতিক মহলে এ পদক্ষেপকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি ‘ট্যাকটিক্যাল ডি-এস্কেলেশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে তেহরান একদিকে বাজার স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে সংঘাত বিস্তার এড়ানোর কৌশলগত অবস্থানও তুলে ধরেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সতর্ক করে বলছে, এ উদ্যোগ স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বহুমাত্রিক সংঘাতে ইসরায়েল, লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীসহ একাধিক আঞ্চলিক শক্তি জড়িত থাকায় পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আংশিক বা স্বল্পমেয়াদি সমাধান নয়—বরং লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সংঘাতের একটি সমন্বিত ও স্থায়ী নিষ্পত্তিই তাদের লক্ষ্য। আইন ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বর্তমান পদক্ষেপ সাময়িক উত্তেজনা হ্রাসে সহায়ক হলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। দেশটির জিলং-এর কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জি পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে কর্মরত সকল ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। উক্ত শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় অর্ধেক এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায়, এর কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়াকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে—এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি উদ্বেগজনক। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণাধীন রয়েছে এবং সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। অন্যদিকে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও অন্যান্য ইউনিট কার্যকর রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগ তুলে উপসাগরীয় পাঁচ রাষ্ট্র—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান—এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি উত্থাপন করেছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক পত্রে আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষকে সহযোগিতা করেছে, যার ফলে সৃষ্ট সামরিক সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের ওপরও বর্তায়। পত্রে ইরান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংরক্ষণ করে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিপুল অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।