পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা ৩০ কোটি ডলার মূল্যের ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডারটি হামলায় অকেজো হয়ে গেছে। এই রাডার ছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলে হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধ্বংসের ফলে ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে, কারণ থাডের সীমিত রাডার এখন আর কার্যকর নয়। দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়াম ও অন্যান্য স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিটি ব্যাটারি প্রায় ১০০ কোটি ডলারের এবং রাডারের মূল্যই ৩০ কোটি ডলার। সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা হারানো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা।
সিআইএস এবং অন্যান্য গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, অঞ্চলটির আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা এখন আরও জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। হোয়াইট হাউসে গত শুক্রবার লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক বসিয়ে পেন্টাগন দ্রুত নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে; পাঁচ দিনেও মেলেনি কোনো সন্ধান। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত, গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তার অবস্থান অজ্ঞাত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উভয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে অধিকতর সন্দেহজনক করে তুলেছে। সর্বশেষ ফোন ট্র্যাকিংয়ে তার অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে শনাক্ত হলেও এরপর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশের সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি Consulate General of Bangladesh in Miami-কে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে Federal Bureau of Investigation-এর সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিকটবর্তী হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে অনুসন্ধান চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ যোগাযোগের পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে পরিবার ও সহপাঠীরা দ্রুত তাকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, যা নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ‘চূড়ান্তভাবে পরাজিত’ করতে নৌবাহিনীসহ সব সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রয়েছে। একই সময় কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে গোলাগুলির অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার কোনো ভিত্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পারস্পরিক হুঁশিয়ারি ও সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলটিকে নতুন করে অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ওপর পুনরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাহাজ চলাচলে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে চলাচল পূর্বের মতো উন্মুক্ত থাকবে না। এদিকে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।