ঢাকা শাহবাগে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মূল প্রবেশপথের পাশে অবিস্ফোরিত ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড পাওয়া গেছে। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে এই সন্দেহজনক বস্তু লক্ষ্য করে উপস্থিতরা দ্রুত শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল গ্রেনেডগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিষ্ক্রিয় করেছে। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পর তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কে বা কোন চক্র বিচার বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রবেশপথে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছে তা তদন্তের বিষয়। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেন। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ডিএনএ নমুনা যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে এবং এ ঘটনায় নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সন্দেহভাজন তিনজনের একজন। অপর দুই সন্দেহভাজন হলেন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহিনুল আলম। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামিকে আদালতে হাজির করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ এক দশকেও মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে।
সরকারি দায়িত্বের মেয়াদ শেষে পুনরায় একাডেমিক পরিসরে প্রত্যাবর্তন করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বর্তমানে তিনি আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া-এ নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ে তিনি দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে তিনি ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দায়িত্বকালীন হজ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কিছু নীতিগত পদক্ষেপ জনমহলে প্রশংসিত হয়। দায়িত্ব সমাপ্তির পর তিনি পুনরায় তার পেশাগত মূলধারায়—শিক্ষকতায়—ফিরে এসেছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে হাদিস ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নিজ প্রতিক্রিয়ায় ড. খালিদ হোসেন বলেন, শিক্ষকতা তার মৌলিক পরিচয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসাকে তিনি পেশাগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তিনটি জেলার পুলিশ সুপারসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নিয়মিত রুটিন বদলির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব দ্রুত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।