ঘুষের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য পদত্যাগ করা এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সামনে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার একটি মামলায় জামিন সহায়তার আশ্বাস দিয়ে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। ওই মামলার আসামি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এ ধরনের দাবি উঠে এসেছে বলে জানায় প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। দুই গণমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রেকর্ডিং সংগ্রহ ও যাচাইয়ের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সামনে আসার পর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম থেকে সাইমুমকে প্রত্যাহার করেন। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, সাইমুম রেজা তালুকদারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দেখার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রসিকিউটরদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত বলেও মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেন। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ডিএনএ নমুনা যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে এবং এ ঘটনায় নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সন্দেহভাজন তিনজনের একজন। অপর দুই সন্দেহভাজন হলেন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহিনুল আলম। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামিকে আদালতে হাজির করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ এক দশকেও মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে।
সরকারি দায়িত্বের মেয়াদ শেষে পুনরায় একাডেমিক পরিসরে প্রত্যাবর্তন করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বর্তমানে তিনি আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া-এ নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ে তিনি দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে তিনি ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দায়িত্বকালীন হজ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কিছু নীতিগত পদক্ষেপ জনমহলে প্রশংসিত হয়। দায়িত্ব সমাপ্তির পর তিনি পুনরায় তার পেশাগত মূলধারায়—শিক্ষকতায়—ফিরে এসেছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে হাদিস ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নিজ প্রতিক্রিয়ায় ড. খালিদ হোসেন বলেন, শিক্ষকতা তার মৌলিক পরিচয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসাকে তিনি পেশাগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তিনটি জেলার পুলিশ সুপারসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নিয়মিত রুটিন বদলির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব দ্রুত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।