তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা একটি আদর্শ জেলায় পরিণত হতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ময়মনসিংহ শহরের যান চলাচল অনেকটাই সহজ করা সম্ভব। হাসপাতাল ও রাস্তার উপর দোকান বসানো এবং পার্কিংয়ের অভাবজনিত সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জ্বালানি পর্যাপ্ত হলেও কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং একাধিকবার জ্বালানি তোলা হচ্ছে, যা নজরদারিতে রাখা হবে। এছাড়া কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিষয়েও অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করেছে। মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, র্যাব ও বিজিবি কর্মকর্তারা।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা-এ খাল পুনঃখনন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের মাঝে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহ দিতে মতবিনিময় সভা ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, পিপিএম। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়। বক্তারা জৈব বালাইনাশক ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মতবিনিময় সভায় মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। পরে লস্করদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় মনোহরপুর থেকে চৌসারা পর্যন্ত প্রায় ১.২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বক্তারা বলেন, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করা সম্ভব।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক এবং তার নিরাপত্তা সদস্যরা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে উত্তেজিত একদল লোক ইউএনওর ওপর চড়াও হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বডিগার্ড তৈবুল (৪৩) আহত হন এবং তার সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গিয়ে ইউএনওকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেল বিতরণে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি সরকারি কাজে বাধা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে; গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গজনিত কারণে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি শিশু, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫ শিশু, ঢাকায় ৩, সিলেটে ২ এবং রাজশাহীতে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৬০৭ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, উল্লিখিত সময়সীমায় ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত দেড় মাসে সারা দেশে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪২ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং ২০৯ জনের ক্ষেত্রে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।