বাগেরহাটের ফকিরহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করা এবং বর্তমানে বৈধ লাইসেন্সধারী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্। এ ঘটনার কারণে তিনি গত দুই দিন ধরে দোকান খুলতেও পারছেন না।
ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ্ জানান, ফকিরহাট উপজেলা মোড়ে রেলওয়ের জমিতে তিনি গত ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। এই জমিতে ভাড়া নেওয়ার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু রাসেল দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করতেন।
গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুল্লাহ্ নিজে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করলে চক্রান্ত ও হুমকির মাত্রা বেড়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে বিবাদী আবু রাসেল ও তার সহযোগী বিশ্বাস শাজ্জাদ হোসেন সাজু চাঁদা দাবি করছেন এবং বিভিন্ন সময় দোকান থেকে মালামাল লুট করার ঘটনাও ঘটাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ তাঁকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে দোকান খালি করার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জোরপূর্বক দোকান দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা আব্দুল্লাহ্ বলেন, “আমি রেলওয়ের বৈধ লাইসেন্সধারী। সরকারি জমি নিজের দখলে রাখতে আমি নিয়ম মেনে সব কাজ করেছি। কিন্তু এই প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। তারা আমার রুটি-রুজির একমাত্র সম্বলটি কেড়ে নিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার এবং শান্তিতে ব্যবসা করার নিশ্চয়তা চাই।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা গেলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, “উক্ত বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বৈধ ব্যবসায়ী তার দোকান নিরাপদে চালাতে পারে এবং অনিরাপত্তার এই চিত্র বন্ধ হয়।
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৃহৎ পরিসরে টিকাদান উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা প্রতিরোধ কর্মসূচি। সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে। উপজেলার মোট ৩৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৩২ হাজার ৫৫০ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, হাম ও রুবেলা সংক্রামক এবং শিশুদের জন্য উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগ; সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা হলে এ রোগসমূহ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকার আওতার বাইরে না থাকে। অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় বজ্রপাতে লাবলু হোসেন (৫০) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আখতারুজ্জামান (৩৮) নামে এক স্কুল শিক্ষক আহত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাঠাঁলি ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া পুলের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক লাবলু হোসেন দক্ষিণ দেশিবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। পথে পুলের হাট এলাকায় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই লাবলুর মৃত্যু হয়। আহত শিক্ষক আখতারুজ্জামানকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম জানান, আহত শিক্ষকের বুকের ডান পাশে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে একটি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা মাদ্রাসার উন্নয়ন ও সহায়তার কথা বলে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। সন্দেহ হলে ব্যবসায়ীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। এতে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।