মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিখোঁজ এক সেনা সদস্যের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ফলে চলমান সামরিক উদ্ধার অভিযান গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
প্রেসিডেন্টের দাবি, তথ্যটি প্রকাশের আগে ইরান কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল না। তবে সংবাদ প্রকাশের পর তারা সতর্ক হয়ে অনুসন্ধান জোরদার করে এবং নিখোঁজ সেনাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এ প্রেক্ষিতে ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে উৎসের পরিচয় চাওয়ার কথা জানান।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য প্যারাসুটে অবতরণ করেন। একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে উদ্ধার করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে বিশেষ বাহিনী অংশ নেয় এবং বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহার করে সফলভাবে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত উভয় সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাপ, কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে চলে যায়। অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, “ট্রাম্প অবৈধ যুদ্ধ উসকানি দিচ্ছেন এবং ইরানের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করছেন, যা গত ৪৮ ঘণ্টায় সীমা অতিক্রম করেছে।” মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর বলেন, “এই অস্থির মানসিকতার ব্যক্তিকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরানো প্রয়োজন।” নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যান্সবুরি যোগ করেন, “২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের সময় এসেছে, কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভা এখনই পদক্ষেপ নিক।” ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প চিরস্থায়ীভাবে দেশ ও বিশ্বের জন্য কলঙ্ক। এখনই সংশোধনী প্রয়োগ করা উচিত।” ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফিও বলেন, “মন্ত্রিসভা এখনই সাংবিধানিক আইনজীবীদের সঙ্গে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা উচিত।” সবমিলিয়ে, ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।
ইরান কুয়েতের উপকূলীয় বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় কুয়েতের উত্তরাঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, পূর্বের বারবার হামলার কারণে মার্কিন বাহিনী কুয়েতের আরিফজান থেকে বুবিয়ান দ্বীপে সরানো হয়েছিল। বুবিয়ান দ্বীপ উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশের কুয়েতের সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনের নজির গড়েছে ইরান, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশব্যাপী এই ইন্টারনেট বন্ধ টানা ৩৭ দিন বা ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, যা পূর্ববর্তী সব জাতীয় পর্যায়ের শাটডাউনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার ফলে ইরানের সাধারণ জনগণ কার্যত বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা নাগরিক অধিকার ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।