সাংবাদিক ও খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিসুর রহমান আলমগীরকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুদক। কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আনিসুর রহমানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ রয়েছে, যেখানে বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত মোট আয় মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর ফলে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মামলাটি দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে। আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ও আরটিভির চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বরিশালের গৌরনদীতে চেকপোস্টে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সাত্তার হোসেন (যুবক)কে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ভুরঘাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি পূর্ব বর্থী গ্রামের আব্দুল হাকিম মৃধার ছেলে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের খাঞ্জাপুর চেকপোস্টে অতিরিক্ত গতির কারণে একটি পিকআপ থামানো হয় এবং কাগজপত্র না থাকায় মামলা দেওয়া হয়। এ সময় সাত্তার নিজেকে এসবি সদস্য পরিচয় দেন। পরিচয়পত্র বা বিপি নম্বর চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুয়া পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, তাকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে সাত্তার হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য নয়, পুলিশ পরিবারের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
রংপুরে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশ (২৬)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় মাদকাসক্ত পলাশের ছুরিকাঘাতে হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পলাশকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য ধারায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বরিশালের বানারীপাড়ায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারিয়া আক্তার (১৮) নামে এক সন্তানের জননী মারা গেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের মারিয়া আক্তারের সঙ্গে রবিউল মৃধার বিয়ের তিন বছর হলো। তাদের সংসারে দুই বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে দম্পতি ঢাকার নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল লেগুনা গাড়ির চালক। মারিয়ার বাবা কবির হাওলাদারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবী, বিয়ের সময় প্রতিশ্রুত স্বর্ণের দুল না দেওয়া ও মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় রবিউল দীর্ঘদিন ধরে মারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। স্ত্রীকে নির্যাতনে স্বামীর মা ও বোনও সহযোগিতা করতেন। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মারিয়াকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। চিকিৎসা না করিয়ে বাসায় ফেলে রাখার কারণে তার অবস্থার অবনতি হয়। ৮ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মারিয়ার মা হাফিজা বেগম ঢাকาจান। গুরুতর আহত অবস্থায় মারিয়াকে পূর্ব সলিয়াবাকপুরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান। বানারীপাড়া থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আসামী করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এলাকাজুড়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে। বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।