'ইচ্ছে শ্রমে গড়ি দেশ, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ' - এই প্রতিপাদ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত করলো 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন। এ সংগঠনটি ২০২২ সাল থেকে এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ নির্মূল অভিযান পরিচালিত করে আসছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ( শুক্রবার), উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট এলাকায় অভিযান শেষে উপজেলাকে ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, পার্থেনিয়াম একটি ক্ষতিকর আগ্রাসী উদ্ভিদ। এটি নরম কাণ্ড বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় আগাছা, যা সাধারণত গাজর ঘাস নামে পরিচিত। দেখতে অনেকটা গাজর পাতা বা চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের পাতার মতো। এতে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার করে।
এই উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকো। এর বৈজ্ঞানিক নাম Parthenium hysterophours. পার্থেনিয়াম সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট উঁচু হয়। একটি গাছ মাত্র চারমাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে, যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ। পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক; ফসলের জমিতে পার্থেনিয়াম জন্মালে ফসলের উৎপাদন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর এই প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলা জুড়ে এটি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করেন উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৃতি প্রেমী সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তিনি গড়ে তোলেন 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সংগঠনটি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও অধিক স্থানে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশ, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ ও জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে সেখানে জৈবসারে পরিণত হয়।
এই ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী বলেন, সে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ি উপজেলাকে পার্থেনিয়াম থেকে মুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, বাতাসের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে যে কোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। তবে তার এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এবং কীভাবে সারা বাংলাদেশ থেকে এটাকে নির্মূল করা যায় সে বিষয়েও একটা যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই অবরোধ শুরু হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে একটি তেলবাহী লরির সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা বা সহায়তার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দায়ী লরি চালককে দ্রুত গ্রেফতার, আহত শিক্ষার্থীর পূর্ণ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে দাবি পূরণে স্পষ্ট আশ্বাস না মেলায় তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশালে ব্যাটারিচালিত যানবাহন খাতকে বিআরটিএ-এর আওতায় এনে লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটসহ ৯ দফা দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল করছে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেও এই বৃহৎ শ্রম খাতটি কোনো পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালার আওতায় আসেনি, ফলে শ্রমিকরা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। তারা দাবি করেন, বিআরটিএ-এর অধীনে এই যানবাহনের নিবন্ধন, বৈধ লাইসেন্স প্রদান, চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট রুট পারমিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপদ চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে একাধিক নীতিমালা ও খসড়া প্রণয়ন করা হলেও সেগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালে প্রস্তাবিত বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান তারা। তাদের মতে, শুধু সিটি কর্পোরেশনের স্টিকার বা সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দিয়ে এই খাতকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন আইনগত কাঠামো ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমজীবী মানুষ এখনো উপেক্ষিত। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে মামলা ও হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন। তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি। তাই ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে পরিকল্পিতভাবে নীতিমালার আওতায় এনে আধুনিক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় এবং ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে মারধর করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অধ্যক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল রাখলেও সংশ্লিষ্টরা তাকে নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাধা দিয়ে আসছিল। তিনি আরও জানান, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে যেতে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে টানা-হেঁচড়া করে মারধর করেন। পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত নন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।