বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপিকে দমন করা সম্ভব নয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সঙ্গে আয়োজিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক বলেন, ‘দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা গুম, খুন ও হয়রানির শিকার হলেও কেউ রাজপথ ছাড়েনি। এক ভাই গুম হয়েছেন, আরেকজন রাস্তায় নেমেছেন। বিএনপির কর্মীরা কৌশলের আড়ালে লুকোছাপা করে চলেনি।’
তিনি আরও জানান, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অনেককে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতা ছিল এবং থাকবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘বিভীষিকাময় সেই সময় অতীত, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সহমর্মিতা দেখাচ্ছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী ইস্যুতে তাৎক্ষণিক অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটরস্থ পার্টি অফিসে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি ও চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক দিক তুলে ধরবেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এনসিপির আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে বসলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি প্রমুখ। ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানান, তারা বৈঠকের আগে সকাল ১০টায় বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন, তাই প্রস্তুতি নিতে পারেননি। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক এখনও আলোচনার অধীনে। দুই দলই সমঝোতার দরজা খোলা রেখেছে, আলাদা হয়ে যাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব একই সাথে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সমঝোতা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বৈঠক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে নির্বাচনী তৎপরতা চালানোর অভিযোগে শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বিপরীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, বহিষ্কারের চিঠি কেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অতীতে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।