নরসিংদী জেলা কারাগারে এক কয়েদীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত কয়েদীর নাম বিল্লাল হোসেন। তার বাড়ী নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আনন্দীর মোড় এলাকায়। মৃত বিল্লাল হোসেন নামের এই কয়েদীর মাদক মামলায় দেড় বছরের সাজা হয়েছিল।
সকালে কারারক্ষীরা তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নরসিংদী জেলা কারাগারের জেলার হুমায়ুন কবির জানান হঠাৎ করে কয়েদী বিল্লাল হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ হলেও নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতালের দেয়ালে পানের পিক, যত্রতত্র আবর্জনা, সিঁড়ি দিয়ে সাইকেল ও মোটরসাইকেল ওঠানো এবং রোগী ও স্বজনদের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগে হাসপাতালের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সৈয়দপুর ছাড়াও দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর, রংপুরের তারাগঞ্জ ও নীলফামারী সদর উপজেলার রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। প্রতিদিন আউটডোরে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী সেবা পেলেও চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের অবহেলার কারণে দেয়ালে পানের পিক ফেলায় হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। রোগীর স্বজন জিকরুল হক জানান, কয়েকদিন আগে হাসপাতালের তিনতলা থেকে তার সাইকেল চুরি হয়েছে। শফিক খান বলেন, তার মায়ের ব্যাগ, ওষুধ ও টাকা চুরি গেছে। রোগী জান্নাত জুহি জানান, তার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাজমুল হুদা বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু কর্তৃপক্ষের নয়, সবার দায়িত্ব। তিনি সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে এবং বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহ বিভাগে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের সন্তানদের অংশগ্রহণে ৯ম বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানসহ নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসকগণ, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, শরীর ও মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা চর্চা অব্যাহত রাখতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মশাল প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে খেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় রাতের আঁধারে অনুষ্ঠিত নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে পুটিমারি আউলিয়া মাদ্রাসায় পরীক্ষার আয়োজন চলাকালীন স্থানীয়রা মাদরাসার সুপার ও এক নারীকে, যিনি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দাবি করেছিলেন, প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য আটক রাখেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষাটি নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে গোপন ও রাতের সময় নেওয়া হয়েছিল। উপস্থিত কয়েকজন গ্রামবাসী বাধা দিলে পরীক্ষা বন্ধ করা হয়। মাদরাসার সুপার রুহুল আমিন বলেন, প্রস্তুতি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ছিল এবং ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে উপস্থিতির তালিকায় মাত্র ১০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন। ফুলহরি ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন জানান, রাতের পরীক্ষার আয়োজন এলাকার মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। শৈলকুপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মাদরাসার সুপার ও প্রতিনিধিকে নিরাপদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।