খেলা

মেসির জীবন থেকে শেখার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫
5-important-life-lessons-to-learn-from-messi
5-important-life-lessons-to-learn-from-messi

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন খাটো, চুপচাপ, অসুস্থ ছেলেটা কীভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠল?


প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু উত্তরটা যতটা বাস্তব, ততটাই অনুপ্রেরণামূলক।
এই গল্পটা কারো রূপকথা নয়। এটা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি — এক বাস্তব জীবনের কিংবদন্তির কাহিনি।

 

মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। ছোটবেলায়ই দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা — তার শরীরে বৃদ্ধি হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি ছিল যে তার পরিবার প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
কিন্তু ভাগ্য বদলায় যখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তার প্রতিভা চিনে নেয়, এবং দায়িত্ব নেয় মেসির চিকিৎসার।
সেখান থেকেই শুরু হয় এক মহান যাত্রা—যা শুধুই ট্রফি বা গোল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় আর নীরব সাফল্যের প্রতীক।

 

আমরা যখন সফলতা ভাবি, তখন চোখে ভেসে ওঠে জাঁকজমক, জয়ের উল্লাস আর গ্ল্যামার।
কিন্তু মেসির গল্প আমাদের শেখায়—নীরবে কাজ করে যাও, সময় আসলে পুরো দুনিয়া তোমাকে চিনবে।

 

এই লেখায় আমরা মেসির জীবন থেকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরব—যা কেবল একজন ফুটবলপ্রেমী নয়, বরং যে কেউ, যেকোনো বয়সে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে।

চলো, শিখে নিই সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা একজন খাটো ছেলেকে ফুটবলের আকাশছোঁয়া শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

 

১. ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা দিয়ে জীবন থেমে যায় না

 

যখন ছোট ছিল, তখন কেউ ভাবত না এই ছেলেটা একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে।
লিওনেল মেসির উচ্চতা স্বাভাবিক ছিল না, কারণ তার দেহে “Growth Hormone Deficiency (GHD)” ছিল।
অর্থাৎ, তার শরীর ঠিকভাবে বেড়ে উঠছিল না। বয়স বাড়ছিল, কিন্তু গড়ন ছিল ছোটদের মতো।
একজন ফুটবলারের জন্য যেটা সরাসরি ক্যারিয়ারে প্রতিবন্ধক।

 

মেসির বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন—চিকিৎসা চালিয়ে যেতে, খেলা চালু রাখতে।
কিন্তু তখন আর্জেন্টিনায় এ চিকিৎসা খরচ এত বেশি ছিল যে তাদের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

ঠিক তখনই—মেসির জীবন বদলে দেয় বার্সেলোনা ক্লাব।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটি মেসির প্রতিভা দেখে তাকে স্পেনে নিয়ে আসে, তার চিকিৎসা, থাকা–খাওয়াসহ সব দায়িত্ব নেয়।
এবং সেই ছোট্ট ছেলেটা নিজের সীমাবদ্ধতা সঙ্গী করেই খেলা চালিয়ে যেতে থাকে, প্রতিদিন আরও পরিশ্রম করতে থাকে।

 

⏳ কেউ যখন বলত "তুমি অনেক ছোট", তখন মেসি বলত না কিছু—জবাব দিত মাঠে গোল দিয়ে।

 

🎯 শেখা:

জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে—তা শারীরিক, আর্থিক বা মানসিক। কিন্তু সেগুলোই যদি তোমাকে থামিয়ে দেয়, তাহলে তুমি হেরে যাবে।
আর যদি সেই সীমাবদ্ধতা থেকেই শক্তি পাও, তাহলে একদিন সেই বাধাই হবে তোমার সাফল্যের প্রেক্ষাপট।

মেসির মতো কেউ যদি ছোট শরীরে বিশাল স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলতে পারে—তাহলে তুমিও পারো।

 

২. প্রতিদিন উন্নতি করাই বড় সাফল্য

 

লিওনেল মেসির জীবনজুড়ে এক জিনিস সবসময় একই থেকেছে—প্রতিদিন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা।
সে কখনো বলে না “আমি সেরা” কিংবা “আমার আর শেখার কিছু নেই।”
বরং তার প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ যেন আরও উন্নত হওয়ার এক নতুন সুযোগ।

 

ছোটবেলা থেকেই মেসি নিজেকে প্রতিদিন একটু করে গড়ে তুলেছে।
⚽ সে শুধু গোল করাকে দক্ষতা মনে করত না,
বরং পাস, ড্রিবল, স্পিড, ফিটনেস—সবকিছুতে সে নিজেকে সময় দিয়েছে।


আর এখানেই তার আসল জাদু।

🎥 একটা উদাহরণ দেখি:

 

মেসি একবার বলেছিল,

“আমি কখনো নিজেকে নিখুঁত ভাবি না। আমি জানি, কালকে আরও ভালো করা যাবে।”

এই মনোভাবই তাকে করেছে ইতিহাসের সবচেয়ে কনসিসটেন্ট (স্থায়ী সাফল্যমণ্ডিত) ফুটবলারদের একজন।

 

📚 শেখা:

 

আজ তুমি যেখানে আছ, সেটাই শেষ না।
প্রতিদিন ১% উন্নতি হলেও, এক বছর পরে তুমি থাকবে ৩৭ গুণ উন্নত অবস্থানে।
(এটা কিন্তু গাণিতিক সত্য, ১.01ⁿ = 37.78 যখন n = 365!)

 

মেসির গল্প বলে, “সেরা হওয়া জরুরি নয়—প্রতিদিন একটু করে ভালো হওয়াটাই আসল।”
তুমি যদি নিয়ম করে নিজের পড়াশোনা, কাজ, স্কিল বা মানসিকতা একটু একটু করে ঠিক করো,
তাহলে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

৩. নম্রতা ও ধৈর্যই প্রকৃত শক্তি

 

আজকের দুনিয়ায় সফলতা মানেই যেন বাহাদুরি, শিরোনামে থাকা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে জাহির করা।
কিন্তু লিওনেল মেসি যেন এর একদম উল্টো —
তিনি সবসময় শান্ত, নম্র, চুপচাপ কাজ করে যান।


কখনো রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান না, গোল করার পরও অহংকার দেখান না, কথার চেয়ে পারফরম্যান্সেই বিশ্বাস রাখেন।

 

তার ক্যারিয়ারে অনেক সময় এসেছে যখন তিনি চাইলেই রাগ করতে পারতেন, কথা বলতেই পারতেন।

 

  • ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে গেছেন

  • ৩ বার কোপা আমেরিকার ফাইনাল খুইয়েছেন

  • ২০২1 সালের আগে দেশের জার্সিতে কোনো ট্রফিই ছিল না
    কিন্তু তারপরও তিনি দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি, অভিমান করলেও মাঠ ছাড়েননি।

 

তার ধৈর্য আর আত্মনিয়ন্ত্রণ তাকে করেছে "লিডার", কেবল খেলোয়াড় নয়।

🌿 শেখা:

 

নম্রতা কখনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটা এমন এক শক্তি, যা তোমাকে ভিতর থেকে গড়ে তোলে।


আর ধৈর্য?
সেটা হলো সাফল্যের আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

 

যখন চারপাশের মানুষ তোমাকে ছোট করে দেখে, ফল আসছে না, বারবার হেরে যাচ্ছো—
তখনো যদি তুমি ভেঙে না পড়ে সামনে এগিয়ে যাও,
তাহলেই একদিন জয় আসবেই।

 

মেসির জীবন বলে,

"চুপ থেকে কাজ করো, কথা বলবে তোমার ফলাফল।"

 

৪. পরিশ্রমের বিকল্প নেই

 

অনেকে ভাবে, মেসি হয়তো ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী।
ঠিক কথা।
কিন্তু শুধু প্রতিভা থাকলেই কি কেউ ইতিহাসের সেরা হয়ে ওঠে?

না।

মেসির প্রতিভার চেয়েও বড় জিনিস হলো তাঁর নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম।

 

⚽ ছোটবেলার গল্প:

 

মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই মেসি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনুশীলন করতেন।
বার্সেলোনায় যাওয়ার পর তিনি যখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যে পড়ে গেলেন, তখনও তিনিই সবচেয়ে আগে মাঠে যেতেন,
সবার পরে প্র্যাকটিস শেষ করতেন।

 

একবার এক কোচ বলেছিলেন—

"মেসির সবচেয়ে বড় গুণ, সে খেলার পরে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে ড্রিবলিং আর ফিনিশিং প্র্যাকটিস করত।
যখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, তখন সে কাজ করত চুপচাপ।"

 

💼 বড় হওয়ার পরও থেমে যাননি

 

  • ইনজুরি থেকে ফিরে জিমে ঘন্টার পর ঘন্টা

  • প্রতিটি ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল খুঁজে বের করা

  • নিজের খেলা নিয়ে সর্বদা সিরিয়াস — যেন সে নতুন এক শিক্ষার্থী

 

সে কারণেই এত বছর পরেও, এত কিছু জেতার পরেও মেসি আজও ভয়ংকর ধারাবাহিক ও কার্যকর।

 

🔥 শেখা:

 

আমরা অনেকেই সফলতার শর্টকাট খুঁজি।
কিন্তু মেসি বলেন না, “আমি ছোট ছিলাম, তাই ছাড় পাচ্ছি।”
তিনি বিশ্বাস করেন, “প্রতিভা যখন পরিশ্রমকে সঙ্গে পায়, তখনই সে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে।”

 

তুমি যদি শুধু স্বপ্ন দেখো, কিন্তু পরিশ্রম না করো — তাহলে সেটা কেবল কল্পনা।
আর যদি প্রতিদিন একটু একটু করে চর্চা করো, চেষ্টা চালিয়ে যাও —
তাহলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবেই।

 

৫. নিজের লক্ষ্য জানলে দুনিয়া জিতে নেওয়া যায়

 

প্রতিভা, পরিশ্রম, নম্রতা—এসব থাকলেও যদি জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকে, তাহলে মানুষ মাঝপথেই হারিয়ে যায়।
কিন্তু মেসি শুরু থেকেই জানতেন—তিনি শুধু ভালো খেলোয়াড় হতে চান না, তিনি দেশের জন্য, নিজের ভালোবাসার ক্লাবের জন্য ইতিহাস গড়তে চান।

 

🎯 বার্সেলোনার প্রতি দায়বদ্ধতা

অনেক ক্লাব প্রচুর টাকায় মেসিকে নিতে চেয়েছিল।
তবু তিনি বার্সেলোনায় থেকে গেছেন ২১ বছর—শুধু পেশাদারিত্ব নয়, ভালোবাসা আর লক্ষ্য ছিল দলের সঙ্গে বড় কিছু করার।

 

🇦🇷 আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপানো স্বপ্ন

বারবার হেরেছেন—বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন, দেশের সমালোচনা শুনেছেন, রাগ করে অবসরও নিয়েছিলেন।
তবু ফিরে এসেছেন। কেন?

কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে কিছু জেতা। দেশের জন্য ইতিহাস গড়া।

এবং ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা আর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে সেটা করে দেখিয়েছেন।

 

📚 শেখা:

আমরা জীবনে অনেক কিছুই করতে চাই—ভালো রেজাল্ট, ভালো ক্যারিয়ার, নাম, খ্যাতি।
কিন্তু যদি পরিষ্কার লক্ষ্য না থাকে, তাহলে মনোযোগ ছড়িয়ে যায়, উৎসাহ হারিয়ে যায়।

তুমি যদি জানো, কোথায় যেতে চাও—তাহলে রাস্তা খুঁজে পাবে।
আর যদি লক্ষ্যই না ঠিক করো, তাহলে দুনিয়ার কোনো GPS-ও তোমাকে পৌঁছে দিতে পারবে না।

 

মেসির জীবন বলে—

"কোনো কিছুই অসম্ভব না, যদি তুমি জানো তুমি কিসের জন্য লড়ছো।"

 

 

উপসংহার

 

লিওনেল মেসির জীবন কেবল একজন ফুটবলারের ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয় —
এটা এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী মানুষের গল্প, যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে লক্ষ্যে পৌঁছাতে।

 

আমরা সবাই জীবনে কোথাও না কোথাও আটকে যাই—
👉 কখনো শরীর, কখনো পরিস্থিতি, কখনো নিজের ভিতরের ভয় আমাদের থামিয়ে দেয়।
কিন্তু মেসি শিখিয়ে দিয়েছেন, “যদি তুমি চুপচাপ নিজের পথে থাকো, পরিশ্রম চালিয়ে যাও, এবং লক্ষ্য না ভুলো — তাহলে একদিন পুরো দুনিয়া তোমার পাশে দাঁড়াবে।”

 

🧠 এই লেখায় যা শিখলাম:

✅ সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা না
✅ উন্নতি করতে হয় ধীরে ধীরে
✅ নম্রতা আর ধৈর্য আসল শক্তি
✅ পরিশ্রম ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়
✅ স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে হার মানে না

 

✨ শেষ কথা:

"জাদু নেই, shortcut নেই — আছে কেবল বিশ্বাস, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নে দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাকা।"

 

তুমি যদি আজ থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করো, পরিশ্রম শুরু করো—তাহলে একটা সময় এসে তুমি নিজেকেই চিনতে পারবে না।
কারণ তখন তুমি আর ‘সাধারণ’ থাকবা না — তুমি হবো নিজের জীবনের ‘মেসি’।

Tags

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসানের মামলার ফাইল যাচ্ছে সরকারে কাছে

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর দেশে প্রত্যাবর্তন ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার দলে ফেরা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও প্রত্যাশা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন, যা আলোচনাকে আরও জোরদার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অংশ নিতে পারেন। তবে সাকিব নিজেই এ তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাকিব জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমে তাকে দলে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অন্যান্য আইনি বিষয় প্রসঙ্গে বিসিবি সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরকারের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, অচিরেই বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে নিষ্পত্তির পথে অগ্রসর হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0

মাশরাফি-সাকিবকে ফেরাতে সহনশীল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল

আমিনুল ইসলাম বুলবুল

দেশ ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল

লিওনেল মেসি

ভোট দিচ্ছেন না মেসি, নিরপেক্ষ থাকছেন এই কিংবদন্তি

বিশ্বকাপে না খেললেও শাস্তি নয়, বরং বাড়তি আইসিসি ইভেন্ট পাচ্ছে বিসিবি

বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখলেও এর জন্য বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা খেলাসংক্রান্ত জরিমানা আরোপ করা হবে না। আইসিসি আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিসিবির অবস্থান তারা নোট করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থা সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য, বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে দেশের অবদান তুলে ধরে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার প্রচলিত নীতিমালা ও আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ার আওতায় বাস্তবায়িত হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডের  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ আসিফ জানান নজরুল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ৩ মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে প্রতিমা মুন্দা প্রথম গোল নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কোচ পিটার বাটলার দুটি পরিবর্তন আনার পর দলের আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়, এবং আলপি আক্তার ফ্রি কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আলপি আক্তার আরও দুটি গোল করেন, ৬৭ মিনিটে এবং ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার ক্রস থেকে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। রাউন্ড রবিন লিগের সব তিনটি ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেরা অবস্থানে থাকলো বাংলাদেশ, ভারতের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। শনিবার এই দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা, আইসিসি’র জরুরি বৈঠক

সৈয়দ আব্দুস সামাদ বা মহাজাদুকর সামাদ

ফুটবলের কিংবদন্তি সামাদের ৬২তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

ছবি: প্রতিনিধি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আইসিসি–ক্রিকেটার সংগঠনের দ্বন্দ্ব তীব্র

0 Comments