দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে শুধু সাধারণ শিক্ষায় নয়, বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিবেচনা থেকেই সরকার এবার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষার পরিসর সীমিত। অধিকাংশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার তরুণরা এই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে করে একদিকে যেমন স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানেও নতুন দ্বার খুলবে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মূলত বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি মেরামত, ফ্রিজ ও এসি রিপেয়ারিং, কম্পিউটার ও আইটি, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সৌরবিদ্যুৎ এবং রোবোটিক্সের মতো চাহিদাসম্পন্ন কোর্স চালু করা হবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখে চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হয়ে উঠবে। প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হবে, যা চাকরির ক্ষেত্রেও মূল্যায়িত হবে। তাছাড়া অনেকে নিজের উদ্যোগেও ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষকেরাও হবেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ, যারা যুগোপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান করবেন। কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষায়িত করাও হবে, যেমন কোনো এলাকায় কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেশি, আবার অন্য এলাকায় আইটি নির্ভর প্রশিক্ষণ বেশি দেওয়া হবে। এইভাবে স্থানীয় চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ধরন নির্ধারণ করা হবে।
এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানের দিক থেকেই নয়, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে, যাতে কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঋণ সুবিধা, উদ্যোক্তা পরামর্শ ও চাকরির সংযোগও দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা প্রকল্পকে বাস্তবিক ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতায় রূপান্তর করবে।
সার্বিকভাবে বললে, প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের এই উদ্যোগ গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও দক্ষ, আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী হয়ে উঠবে, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ‘কোরাম’ বা গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টে নেপাল-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন, সেখানে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা সরকার গঠন করতে পেরেছেন—কারণ সেখানে ঢাবিকেন্দ্রিক ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম’ ধরনের রাজনীতির প্রভাব নেই বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই একমত হতে পারেন। রাকসুর এই নেতা তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের দাবি, সংগঠনিক ভূমিকা বা ব্যক্তিগত অবদান নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা তার ভাষায় ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর উদ্যোগ বা কর্মসূচি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। পোষ্য কোটা আন্দোলনের সময়ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, জুলাই-সম্পর্কিত নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ঢাবিকেন্দ্রিকভাবে বড় পরিসরে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তিনি অবহেলার মুখে পড়েছেন। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে জনপ্রিয়তা বা অনুসারীর সংখ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়নের প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং নেপাল-এর নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত। নীতিমালা সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো নতুন খাত তৈরি করে অর্থ আদায় করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালনা করতে হবে। হিসাব সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির উপর যৌথভাবে চাপানো হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকবেন। নীতিমালায় ব্যাংকিং ও অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব ফি, দান-অনুদান ও সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক বা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। জরুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ সম্ভব, যা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করার আগে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী। সভায় জানানো হয়, বি.এস-সি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ থেকে দুপুর ১২টা ৩০ পর্যন্ত, আর বিআর্ক প্রোগ্রামের অংকন পরীক্ষা দুপুর ১২টা ৪৫ থেকে ১টা ৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের নিরাপত্তা, যানজট ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধসহ পরীক্ষা চলাকালীন সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত দায়িত্ব অপরিহার্য।”