খাগড়াছড়ি আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে একটি নির্বাচনী মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি টাউন হল মিলনায়তনে এ সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রফেসর আব্দুল মোমেন এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা। বক্তারা অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি আসনে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।
শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যার প্রতিবাদে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টায় নব্বইরশী বাসষ্ট্র্যান্ড থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ চৌরাস্তা মোড়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় পরিণত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান সাঈফ, পৌর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাষ্টার আল আমিন, সহ-সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন নেতা। সভায় শাহাদাত বরণকারি মাওলানা রেজাউল করিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বক্তারা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফকিরহাট উপজেলায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট থানা আমীর এবিএম তৈয়বুর রহমান, সেক্রেটারী আবুল আলা মাসুম, নির্বাচন পরিচালক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, যুব জামায়াতের সভাপতি মো: সুমন হোসেনসহ অন্যান্য নেতা ও সাংবাদিক। মাওলানা মশিউর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা, যুবকদের বেকার সমস্যা সমাধান এবং এলাকার সব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, চাকুরীর আশা না রেখে যুবকদের উদ্যোক্তা হতে হবে। নির্বাচিত না হলেও সমাজকল্যাণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১০ দলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কালেখারবেড় শহীদ মিনার চত্বরে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। রাজনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ জিএম ফারুক হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক। জনগণের সমর্থন পেলে রামপাল–মোংলার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।” সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসাইন, রামপাল উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাজিদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মল্লিক আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান জিহাদ। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রশিবির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
খুলনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ প্রার্থী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সমর্থিত সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে হুমকি, চাঁদাবাজি ও নির্যাতন চালায়, তারা ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ থাকবে না। ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হুমকি-ভীতি ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। ইসলামী শাসনের অধীনে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও ভয়ভীতি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। মিয়া গোলাম পরওয়ার ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে প্রতিশ্রুতি দেন, গণতান্ত্রিক ও ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে এমপি থাকাকালীন সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন হোন এবং ভোটের অধিকার প্রয়োগ করুন। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আশ্বাস দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ, ভোটের মাধ্যমে সবাই নিরাপদ, সম্মানিত ও উন্নত জীবন যাপন করতে পারবেন।
বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কেবল সততা বা কেবল যোগ্যতা—এককভাবে কোনোটি দিয়েই কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সুশাসনের জন্য উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যোগ্য মানুষের অভাব নেই, কিন্তু সর্বস্তরে দুর্নীতির বিস্তার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার দাবি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সংগঠিত ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাগতভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে ডা. সুলতান আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দুবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তবে ঐতিহাসিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় সহাবস্থান ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বরগুনায় একটি মেডিকেল কলেজ, একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৎ ও নীতিবান নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই—দায় নিতে হবে সবাইকেই।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন করা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়েতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ৩০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়েতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, দুপুরে ঝিনাইগাতি মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়েত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে চেয়ার বসানোর বিষয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুইজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের মোটরসাইকেল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারদের টাকা দেন। এ সময় কয়েকজন ভোটারকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট দেখাতে দেখা যায়। তারা দাবি করেন, ভোটের জন্য ওই টাকা জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় জামায়াত নেতা রবিউল আলম তালুকদার বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, বিকেলে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে প্রতিপক্ষ দলের লোকজন নিজেরাই টাকা দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, গলায় থাকা মাফলার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে মিছিলটি শহরের জহিরিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ট্রাংক রোড প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। মিছিল ও সমাবেশে শত শত নারী নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া নারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, কটুক্তি ও হেনস্তার প্রতিবাদ জানান। অংশগ্রহণকারীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী মাঠে হয়রানি বন্ধ এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, নারী নেতাকর্মীদের ওপর এ ধরনের আচরণ নারী অধিকারের লঙ্ঘন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়, তবে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সফরকে কেন্দ্র করে বরিশালের পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে এ পরিদর্শন করা হয়। এ সময় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে বরিশাল-৪ আসনের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা সামাল দিতে মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে—এই দুইটা একসাথে চলতে পারে না।” তিনি বলেন, “যে নিজের মাকে সম্মান করতে পারে না, সে বাংলাদেশের কোনো নারীকে সম্মান করতে পারবে না। আমরা মায়ের জাতির ওপর হামলা হতে দেব না।” মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাঘ মাসেই যদি মাথা গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কী করবেন? জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে যারা জনগণের রায়কে অসম্মান করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের শরীরে আঘাত করা যায়, কিন্তু হৃদয় কখনো জয় করা যায় না। হৃদয় জয় করতে হলে মায়ের জাতিকে সম্মান করতে হবে।” খুলনার শিল্প পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “৫৪ বছরে খুলনার শিল্প বিকশিত হয়নি, বরং ধ্বংস হয়েছে। একের পর এক সরকারি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। একটি কারখানা বন্ধ মানে শুধু একজন নয়, একটি পুরো পরিবার বেকার হওয়া।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে।” জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে আলোচনা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বেকারদের হাতে ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করব।” মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে ঘর ও কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র নারীদের পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি জামায়াতের পক্ষে নয়, সন্তানহারা মা, স্বামীহারা বোন ও এতিমদের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি।” তিনি দাবি করেন, “৫ আগস্টের পর জামায়াত প্রতিশোধ নেয়নি—এটাই প্রমাণ করেছে জনগণ আমাদের কাছে নিরাপদ।” জনসভায় উপস্থিত সবাইকে ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে, আমরা শুধু ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।” সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্ধ মিল চালু, গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর ও সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্পে রূপান্তরের দাবি জানান। জনসভায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এবং জামায়াত ও মিত্র দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে সামনে রেখে নীলফামারী ২ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাড়িপাল্লা প্রতিক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ডিসি চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন সড়কের রুবেল চত্বরে শেষ হয়। এতে সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মওলানা আবু হানিফা শাহ, রাকসুর সহ-সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জেলা জামায়াতের বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু ও শহর জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। ডিসি চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নীলফামারী সদর আসনের সার্বিক উন্নয়ন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রয়োজন।” উল্লেখ্য, নীলফামারী ২ আসনে জামায়াতের পাশাপাশি মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র হাসিবুল ইসলাম (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু (দেয়ালঘড়ি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিফোন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজুল ইসলাম মিনাজ।
খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখার আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণে খুলনার শিল্প ও কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, কাজ দেব। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে যুব সমাজের অবদান কিছুটা হলেও শোধ দিতে চাই।” তিনি দেশে সহিংসতা ও নির্বাচনী হানাহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জনগনের ভোটের প্রতি আস্থা রাখুন। ভোটে কেউ বাধ্য হবে না, তবে প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের জুলুম ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দলের নেতারা জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়নি। তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে মন্ত্রী-এমপির স্বার্থ নয়, সমগ্র দেশের মর্যাদা ও শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য কাজ করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে দলের নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে পারে, তাদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। ইনছাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও তিনি প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা, অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর নির্যাতন—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা হবে এবং যুবসমাজকে ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে পাচার করা অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাতক্ষীরায় অতীতে সংঘটিত গুম ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরোয়ারসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা।
খুলনা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া আদর্শ গ্রামে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভোট প্রার্থনা করেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। দেশ ও জাতির কল্যাণে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করা জরুরি।” গণসংযোগে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রার্থীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন।
খুলনা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী না হলে গত ৫৪ বছরের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনদূর্ভোগ আবারও চলবে।” তিনি ভোটারদের নৈতিক নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে, তাই জাতীয় নির্বাচনেও দুর্নীতিবাজদের পরাজিত করা সম্ভব। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসন, পরে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দির ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। তিনি নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ” হিসেবে আখ্যায়িত করে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা জানান। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা উচিৎ। এ সময় তার সঙ্গে ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার জামায়াত ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সভায় খুলনা মহানগরী ও জেলার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনসভা সফল করতে অর্ধশতাধিক মাইক ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে, দুই লক্ষাধিক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামে প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪০ ফুট বাই ৩০ ফুট আকারের বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে, নারীদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা, খাবার পানি ও ভ্রাম্যমান টয়লেট রাখা হয়েছে। মাঠের বাইরেও শহরের বিভিন্ন রাস্তায় মাইকিং করা হয়েছে যাতে সবাই বক্তব্য শুনতে পারে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে খুলনায় পৌঁছে বেলা ৩টায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীরা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান জানান, জনসভার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে এবং খুলনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ থেকে সব অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি হবে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক জনসভা।
জামায়াতের সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে আহমাদ আব্দুল্লাহ আরমান বাবার নেতৃত্ব, সততা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আরমান জানান, ছোটবেলায় বাবা এলাকার ক্লাব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রিকেট ব্যাট, বল, হেলমেট ও খেলনা সরবরাহ করলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা ব্যবহার করতে পারতেন না। তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, “পিতা সবসময় বলতেন, জনগণের সম্পদ আমাদের নয়, এটি আমানত। এর খেয়ানত করলে আল্লাহও ক্ষমা করেন না, মানুষও করে না।” আরমান উল্লেখ করেছেন, ২০০১–২০০৬ সালে তার পিতা নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেন। তবে সংখ্যার চেয়ে বড় শিক্ষা তিনি পেয়েছেন পিতার সততা ও দায়বদ্ধতা থেকে, যা জনগণের প্রতি তার নৈতিক কর্তব্য ও আমানতদারিতার প্রমাণ। পোস্টের মাধ্যমে আরমান জানিয়েছেন, এই নৈতিক দৃষ্টান্তই একজন জনপ্রতিনিধিকে ইতিহাসে টিকিয়ে রাখে এবং তার পিতার জীবন সেই ইতিহাসের পথে অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আগামী ২৭ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) জেলা জামায়াত শহরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, জনসভা বেলা ১২টায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত থেকে নির্বাচনী কর্মসূচি ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। মুকুল আরও বলেন, জনসভা শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে আয়োজনের জন্য দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান ২৭ জানুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। জনসভা আয়োজন করছে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কমিটি। হেলিকপ্টারযোগে যশোর হয়ে খুলনায় পৌঁছাবেন তিনি এবং খুলনা সভা শেষে বাগেরহাটে অংশ নেবেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগরী আমীর ও খুলনা-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান জানান, জনসভা সফল করতে ১৫টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪০×৩০ ফুট মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কেএমপির অনুমতি নেওয়া হয়েছে। জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। সভায় বিশেষ অতিথি থাকবেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং খুলনার অন্যান্য আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীরা। সভাপতিত্ব করবেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৩ প্রার্থী অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, ভোট কেনার চেষ্টা করছে এবং সরকারি লোগো ব্যবহার করে কার্ড বিতরণ করছে। নারীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব আচরণ নির্বাচনী বিধির লঙ্ঘন এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তিনি আরও জানান, মাদক ও সন্ত্রাসজনিত অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দ সার্কিট হাউস ময়দানের মঞ্চ ও মাঠ পরিদর্শন করেছেন এবং খুলনাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের ফুলপুকুর মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন। জনসভা পেড়িখালি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দেশ। রামপাল–মোংলার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনিয়মমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন ও শেখ মোহাম্মদ ইউনুস। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমতুল্লাহ, রামপাল উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাজিদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মল্লিক আব্দুল হাই, সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান জিহাদ, মোংলা উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. কোহিনুর সরদার, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মো. আসাদুজ্জামান আছাদ, মুক্তিযোদ্ধা রাজু আহমেদ, ছাত্রশিবির নেতা আহমদুল্লাহ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সকল স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।