বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়। ৫ আগস্টের পর জামায়াত সারাদেশে মানুষের সম্পদ ও সম্মান রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিজেরা চাঁদাবাজি করবে না এবং কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। জুলাইয়ের শহিদরা প্রাণ দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের পথ তৈরি করেছেন। জনগণের ভোটে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে দুর্নীতির গোড়া ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় দুর্নীতিবাজরা আইনের বাইরে থাকবে—এটা চলতে পারে না।
গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ লুট ও পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিদেশে পাচার হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ জনগণের সম্পদ, তা ফেরত আনার জন্য চূড়ান্ত লড়াই করা হবে।
দলের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে হত্যা করা হয়েছে এবং বহু নেতাকর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাবে না। তবে শহিদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।
নারী ও যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বরিশাল অঞ্চলের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদী সংস্কার ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা গেলে এ অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।
জনসভায় বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
ডা. পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগে ফেনী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট (জামায়াতে ইসলামী) মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মদ মানিককে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা এ নোটিশ জারি করেন। শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে ফখরুদ্দিন মানিক তাঁর নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করছেন। অথচ দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর নামের সঙ্গে ‘ডা.’ পদবির কোনো উল্লেখ নেই। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নোটিশে আরও বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(৩)(খ) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিচার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে লিখিত সুপারিশসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশ অনুযায়ী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ফেনীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (যুগ্ম জেলা জজ আদালত) স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় এসেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুনের পর এবার নির্বাচন থেকে সরে এসে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাঁঠাল প্রতীক) প্রার্থী রওশন মহানামা। তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতা জয়নাল আবেদীন ও ফয়সাল দিদার দিপুসহ আরও কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীতে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তারা উপস্থিত হন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই যোগদান বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। স্থানীয়ভাবে তাদের পৃথক সমর্থক গোষ্ঠী থাকায় ভোট বিভাজনের ঝুঁকি কমে বিএনপির পক্ষে একক শক্তি গড়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি এলাকায় বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার বলেন, বিএনপি একটি পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক দল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে বিজয়ী করবে এবং দীর্ঘদিন পর ভোটাররা তাদের পছন্দের দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রংপুর বিভাগের প্রাণ দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটার দিকে নীলফামারী পৌরসভা মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোনো ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যেমন ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ছিল না, তেমনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশও হবে সবার জন্য নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের রাজনীতি। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, কৃষকদের কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে নীলফামারী জেলার চারটি আসনের বিএনপি ও জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন।