কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিল্লাল হোসেন শ্রাবণ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার রামপুর মোড়লবাড়ী এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোসেনপুর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ইশা ফিলিং স্টেশনের মালিকের কাছে অভিযুক্ত শ্রাবণ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়া বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফিলিং স্টেশনে এসে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক পাম্প বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই দিন রাতে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা বিরোধে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পাশের চতুল রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিন্টু মোল্লা (৫৭) স্থানীয় চতুল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত বড় ভাই গোলাম কবির (৭১) জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ও পেশায় চিকিৎসক। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলমান পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গোলাম কবির মিন্টুকে বাগান কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেন। বাগ্বিতণ্ডা শেষে তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত শটগান দিয়ে মিন্টুর গলা ও বুকে ছয়টি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গোলাম কবিরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পুলিশকে খবর দেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যার ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরাধ সংক্রান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে পূর্বেও মারামারি, অস্ত্র ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিভিন্ন মামলায় বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বর্তমানে ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’-এর চেয়ারম্যান।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দুই ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে তালুকনগর বাজার এলাকায় এ হামলা হয়। আহতরা হলেন মো. জালাল মিয়া (৩৭) ও পিন্টু (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াসের ছেলে ইমরান (৩৫), জাহিদ (২৮) এবং তাদের সহযোগী রাজিব (২৫) ও আলামিন (২৫) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আহত পিন্টুর দাবি, হামলাকারীরা চাপাতি, দা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে জালাল গুরুতর আহত হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ২২ মার্চ তোফায়েল আহমেদ সূর্য (৫২) নামের আরেক ব্যক্তির ওপরও একই কায়দায় হামলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ইমরান এলাকায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তার সহযোগীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. কমর উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পল্লীতে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত চালক হারুন অর রশিদ (৫৩) কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত: মোবারক আলী মোল্লার ছেলে। রাত ৯টার দিকে ২ জন যাত্রী নিয়ে উপজেলা সদর থেকে সোনাতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী প্রতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে যখন করে তার পকেটে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এঘটনায় একটি অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।