নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২ মে) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ী বাংলা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফিরিজুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তল্লাশিকালে তার পরিহিত লুঙ্গির কোচা থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১০ গ্রাম হেরোইন ও ২১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা এবং ইয়াবার মূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা—মোট প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
আলোচিত পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এখনো তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ফোরকান গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়া থাকতো। স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে ছোট্ট এক সংসার ছিল তার। প্রাইভেট কার চালিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু ধীরে ধীরে ফোরকান মাদকে জড়িয়ে পড়ে। সংসারের টাকা মাদকে উড়াতে শুরু করে, স্ত্রীকে মা'রধ'র করতো, যৌতুকের টাকা আনার জন্য চাপ দিতো। এলাকাবাসী বহুবার মিটমাট করলেও বদলায়নি সে। গতকাল রাতে চাকরির কথা বলে শালাকে বাসায় ডাকে ফোরকান। এরপর গভীর রাতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শালাকে নির্মমভাবে খুন করে সে৷ ছোট ছোট নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকেও রেহাই দেয়নি সে। তার ছোট মেয়ের বয়স ছিলো মাত্র ২ বছর৷ সবশেষে নিজের ছোট ভাই এর স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে “টাকা দিতে পারে না, তাই সব কয়টারে শেষ কইরা দিছি।” এরপর পালিয়ে যায়।
নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি সেই মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব-১৪ জানায়, অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর-কে ভোররাতে গৌরীপুর উপজেলা এলাকা থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নাবালিকা একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। চিকিৎসা পরীক্ষায় তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা ও লুটপাটের চেষ্টার ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন সুন্দরী ইকো রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে একদল দুষ্কৃতিকারী হামলার চেষ্টা চালায়। তারা রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে দুষ্কৃতিকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হলে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাংমারী খাল এলাকা থেকে রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।