দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বেসামরিক সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও লুটতরাজের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, যা সামরিক শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ ও ‘হারেৎজ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন কিছু রিজার্ভ ইউনিট বেসামরিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিজার্ভ সেনা সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্য, অলঙ্কার, এমনকি পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
একাধিক ঘটনায় কমান্ড পর্যায় থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করতে ব্যর্থতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক কমান্ডার তার অধীনস্থ সেনাদের লুট করা সামগ্রী নিয়ে ফেরত আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গাজা সংঘাতকালেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান Eyal Zamir সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্দেশনার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল সামরিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনি জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে পারে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।